এমডি রেজওয়ান আলী বুরো প্রধান:
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলা সহ আশপাশের বিভিন্ন অঞ্চলের বাজার ঘুরে দেখা গেছে,সাম্প্রতিক সময়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দামে মিশ্র চিত্র বিরাজ করছে। একদিকে গীষ্মকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় কিছু পণ্যের দাম সাধারণ ক্রেতার নাগালে এসেছে, অন্যদিকে মাংস, তেল ও মসলাজাতীয় পণ্যের উচ্চমূল্য এখনো ভোগাচ্ছে সাধারণ মানুষকে।🥬 সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি বর্তমানে সবজির বাজার তুলনামূলক ভাবে স্থিতিশীল। আলু, পেঁয়াজ,টমেটোসহ বেশ কিছু নিত্যব্যবহৃত সবজি সহনীয় দামে বিক্রি হচ্ছে। আলু: ২৫–৩০ টাকা, পেঁয়াজ: ২৫–৩০ টাকা, টমেটো: ৩০–৪০ টাকা
বেগুন: ৪৫–৫০ টাকা, কাঁচামরিচ: ৫০–৬০ টাকা, তবে মসলা জাতীয় পণ্যের দাম এখনো বেশ চড়া। রসুন: ১৩০–১৫০ টাকা, আদা: ১৮০–২০০ টাকা,ক্রেতাদের মতে,“সবজির দাম কিছুটা কমলেও আদা-রসুনের দাম কমেনি,এতে রান্নার খরচ কমছে না।”
🐟 মাছের বাজারে দামের ভিন্নতা
মাছের বাজারে দামের ওঠানামা লক্ষ্য করা গেছে। দেশি মাছের দাম তুলনামূলক বেশি,আর চাষের মাছ কিছুটা সস্তা। রুই: ২৪০–৩০০ টাকা,
কাতলা: ২৭০–২৯০ টাকা, তেলাপিয়া: ১৮০–২২০ টাকা, পাঙ্গাস: ১৬০–২০০ টাকা,ছোট মাছ (পুঁটি/মলা): ২০০–৩০০ টাকা,বিক্রেতারা বলছেন,জ্বালানি খরচ ও পরিবহন ব্যয় বাড়ার কারণে মাছের দাম কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
🍗 মাংসের বাজারে অস্বস্তি মাংসের বাজারে এখনো কোনো স্বস্তি নেই। বিশেষ করে গরু ও খাসির মাংস সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে। গরুর মাংস: ৭৫০–৮০০ টাকা,খাসির মাংস: ৯০০–১১০০ টাকা,
ব্রয়লার মুরগি: ১৮০–২২০ টাকা,
অনেক ক্রেতাই জানাচ্ছেন, “মাংস এখন আর নিয়মিত খাওয়া সম্ভব হচ্ছে না,বিশেষ দিনেই সীমাবদ্ধ রাখতে হচ্ছে।” 🍚 চাল-ডালে চাপ অব্যাহত
চালের বাজার তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও দাম এখনো সাধারণ মানুষের জন্য চ্যালেঞ্জিং। মিনিকেট চাল: ৬৫–৭৫ টাকা,মাঝারি চাল: ৫০–৫৫ টাকা,মসুর ডাল: ৯০–১২০ টাকা,
খাদ্যপণ্যের এই মূল্যস্তর নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজেটে চাপ তৈরি করছে।🥚 অন্যান্য নিত্যপণ্যে ঊর্ধ্বগতি
ডিম ও ভোজ্যতেলের দামও স্বস্তিদায়ক নয়। ডিম (হালি): ৪৫–৫০ টাকা, সয়াবিন তেল (লিটার): ২১০–২২০ টাকা,বিশেষ করে তেলের দাম দীর্ঘদিন ধরেই উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে,যা সার্বিক খাদ্য ব্যয়ে বড় প্রভাব ফেলছে। 📊 সার্বিক চিত্র বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সরবরাহ বৃদ্ধি পেলে সবজির দাম আরও কমতে পারে। তবে আমদানি নির্ভর পণ্য ও জ্বালানি খরচের প্রভাবে মাংস,তেল ও মসলার দাম দ্রুত কমার সম্ভাবনা কম। 🗣️ ক্রেতা-বিক্রেতার প্রত্যাশা ক্রেতারা নিত্যপণ্যের দাম সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার জন্য সরকারের কার্যকর বাজার তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। অন্য দিকে বিক্রেতারা বলছেন,পাইকারি বাজারে দাম কমলে খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়বে। বর্তমান বাজার পরিস্থিতিতে কিছু পণ্যে স্বস্তি এলেও সামগ্রিকভাবে জীবনযাত্রার ব্যয় এখনো উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।