এমডি রেজওয়ান আলী বুরো প্রধান:
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে জ্বালানি তেল মজুদ ও বিক্রয়ে গুরুতর অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় দুইটি ফিলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অতিরিক্ত মজুদ রেখে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি এবং ভোক্তাদের নির্ধারিত মাপের চেয়ে কম তেল সরবরাহের মতো গুরুতর অপরাধে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রবিবার (৫ এপ্রিল) পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন বিরামপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া নওরীন। অভিযানে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয় যে, কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সরকারি নিয়ম-কানুনকে উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত লাভের আশায় সাধারণ জনগণের সাথে প্রতারণা করে আসছিল। অভিযান সূত্রে জানা যায়, বিরামপুর উপজেলার দিওড় এলাকায় অবস্থিত মেসার্স আলহাজ্ব মমতাজ ফিলিং স্টেশন নির্ধারিত জরুরি মজুদের সীমা অতিক্রম করে অতিরিক্ত তেল মজুদ করে রাখে এবং ইচ্ছাকৃত ভাবে বাজারে সরবরাহ না করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করে। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অন্যদিকে, বিরামপুর পৌর শহরের ঘোড়াঘাট রেলঘুমটি এলাকায় অবস্থিত শারমিন ফিলিং স্টেশন-এ তেল পরিমাপে কারচুপির অভিযোগ প্রমাণিত হয়। নির্ধারিত মাপের চেয়ে কম তেল দিয়ে ভোক্তাদের ঠকানোর দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রশাসন জানায়, এসব কর্মকাণ্ড সরাসরি ভোক্তা অধিকার লঙ্ঘন এবং সরকারি নীতিমালার সুস্পষ্ট অবমাননা। এ ধরনের অপরাধ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ও সংশ্লিষ্ট জ্বালানি নিয়ন্ত্রণ বিধিমালার আওতায় শাস্তি যোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজিয়া নওরীন কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন,
“সরকার নির্ধারিত মূল্যে এবং সঠিক পরিমাপে জ্বালানি তেল সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। কোনো অসাধু ব্যবসায়ী যদি মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা মাপে কম দিয়ে ভোক্তাদের প্রতারণা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি আরও জানান,জ্বালানি তেলের বাজার স্থিতিশীল রাখা,অবৈধ মজুদ ও পাচার রোধ এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ সুরক্ষায় বিরামপুর উপজেলায় নিয়মিত অভিযান ও নজরদারি অব্যাহত থাকবে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি তেল একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল পণ্য। এর সরবরাহে সামান্য অনিয়মও বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। অতিরিক্ত মজুদ করে সরবরাহ বন্ধ রাখা একদিকে যেমন কৃত্রিম সংকট তৈরি করে,অন্যদিকে মাপে কম দেওয়া সরাসরি ভোক্তাদের আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়। তাই এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর নজরদারি ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি অত্যন্ত জরুরি।বিরামপুরে পরিচালিত এই অভিযান প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতিরই প্রতিফলন। ভোক্তাদের অধিকার রক্ষা এবং বাজারে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও জোরদার থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেছেন।