এমডি রেজওয়ান আলী বুরো প্রধান:
আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ,বাংলাদেশে চিকিৎসা বিজ্ঞানের আধুনিকায়নে নতুন সম্ভাবনার বার্তা নিয়ে অনুষ্ঠিত হলো পরমাণু চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের ২৯তম জাতীয় সম্মেলন। রাজধানীতে আয়োজিত এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ও নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী ডা.এ জেড এম জাহিদ হোসেন। সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত নিউক্লিয়ার মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, চিকিৎসক,গবেষক,বিজ্ঞানী ও স্বাস্থ্য খাত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি,ক্যান্সার নির্ণয় ও চিকিৎসা,গবেষণা এবং স্বাস্থ্যসেবার ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা। “উন্নত চিকিৎসা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে হবে”সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা.এজেড এম জাহিদ হোসেন তাঁর বক্তব্যে বলেন,
“দেশের স্বাস্থ্যখাতকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে আধুনিক প্রযুক্তি নির্ভর চিকিৎসা ব্যবস্থার বিকল্প নেই। নিউক্লিয়ার মেডিসিন ক্যান্সারসহ জটিল রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এই সেবাকে আরও বিস্তৃত করতে হবে।”তিনি আরও বলেন,“সরকার সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে। দক্ষ চিকিৎসক,গবেষক ও আধুনিক যন্ত্র পাতির সমন্বয় ঘটাতে পারলে বাংলাদেশ চিকিৎসা খাতে আরও এগিয়ে যাবে।”ক্যান্সার চিকিৎসায় নতুন দিগন্ত সম্মেলনে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান,বর্তমানে নিউক্লিয়ার মেডিসিন চিকিৎসা বিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শাখা হিসেবে বিশ্বব্যাপী গুরুত্ব পাচ্ছে। PET-CT, SPECT এবং অন্যান্য আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। বিশেষ করে ক্যান্সার চিকিৎসায় নিউক্লিয়ার মেডিসিন নতুন আশার আলো তৈরি করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে রোগীর সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও অনেক বেড়ে যায় বলে জানান বক্তারা। একজন গবেষক বলেন,“বাংলাদেশে নিউক্লিয়ার মেডিসিনের ব্যবহার বাড়ছে। তবে এই খাতে আরও গবেষণা,প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত উন্নয়ন জরুরি।”গবেষণা ও দক্ষ জনবল তৈরির আহ্বান সম্মেলনে তরুণ চিকিৎসক ও গবেষকদের অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। বিভিন্ন গবেষণাপত্র উপস্থাপনের মাধ্যমে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার নতুন নতুন দিক তুলে ধরা হয়। বক্তারা বলেন,দেশে যদি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা সুবিধা বৃদ্ধি করা যায়,তবে বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা বিশ্বমঞ্চে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবেন। একইসঙ্গে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়। স্বাস্থ্য খাতে ইতিবাচক বার্তা স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন,এই জাতীয় সম্মেলন শুধু চিকিৎসকদের মিলনমেলা নয়,বরং বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। বিশেষজ্ঞদের মতে,আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও সম্প্রসারণ করা গেলে দেশের সাধারণ মানুষ কম খরচে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা পাবে। সম্মেলনের শেষপর্বে আয়োজকরা বলেন,পরমাণু চিকিৎসা খাতকে আরও এগিয়ে নিতে সরকার, চিকিৎসক সমাজ ও গবেষকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বাংলাদেশ যখন উন্নত স্বাস্থ্যসেবার পথে এগিয়ে যাচ্ছে,তখন পরমাণু চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের এই ২৯তম জাতীয় সম্মেলন দেশের চিকিৎসা খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।