এমডি রেজওয়ান আলী,বুরো প্রধান:
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন,একটি আধুনিক, গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গঠনে স্বাধীন গণমাধ্যমের বিকাশ বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। তিনি বলেন,জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার অবাধ তথ্য প্রবাহ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে। শনিবার (২ মে ২০২৬) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাব-এ ‘বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘গণমাধ্যমের নতুন চ্যালেঞ্জ অপতথ্য: আমাদের করণীয়’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ ও মতপ্রকাশ সীমিত করার যে সংস্কৃতি ছিল,বর্তমান সরকার সেই অবস্থা থেকে বেরিয়ে এসে স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরিতে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তিনি উল্লেখ করেন,“তথ্যের স্বাধীনতা মানে গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো নয়। জনগণের কাছে সঠিক, নির্ভুল ও পরিচ্ছন্ন তথ্য পৌঁছে দেওয়াই প্রকৃত গণমাধ্যমের দায়িত্ব।”তিনি আরও বলেন,“যেমন অক্সিজেন ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না,তেমনি সঠিক তথ্য ছাড়া গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। তবে তথ্য যদি বিকৃত বা দূষিত হয়, তাহলে তা সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।”
বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন,“দেশ আজ নতুন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে এগোচ্ছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে। এই পরিবর্তিত পরিস্থিতি গণমাধ্যমের সামনে নতুন সম্ভাবনা ও দায়িত্বের ক্ষেত্র তৈরি করেছে।”
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন মো. শহিদুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন কাদের গনি চৌধুরী,আবদুল হাই শিকদারসহ সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।
বিএফইউজে মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেন,বর্তমানে অপতথ্য ও মিসইনফরমেশন কেবল প্রযুক্তিগত সমস্যা নয়,এটি সামাজিক ও রাজনৈতিক অস্থিরতারও বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন,সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ করে ফেসবুক ও ইউটিউব কেন্দ্রিক “তথ্য সন্ত্রাস” মানুষের সম্মান ও অধিকার ক্ষুণ্ন করছে। তিনি আরও বলেন,“সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ায় গুজব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় গবেষণা,গণসচেতনতা এবং পেশাদার সাংবাদিকতার সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।”অনুষ্ঠানে বক্তারা সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, ডিজিটাল সুরক্ষা এবং স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রকাশের পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। এ সময় আবদুল হাই শিকদার সরকারকে ‘দৈনিক বাংলা’,সাপ্তাহিক বিচিত্রা’ ও ‘টাইমস’এর মতো ঐতিহ্যবাহী গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন,এসব প্রতিষ্ঠান একসময় দেশের মেধাবী সাংবাদিকদের প্রাণকেন্দ্র ছিল এবং পুনরায় চালু হলে বহু সাংবাদিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সৈয়দ আবদাল আহমদ। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন এলাহী নেওয়াজ খান সাজু,ড.আবদুল হাই সিদ্দিক এবং মোহাম্মদ আবদুল বাছির। ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম-এর সঞ্চালনায় আয়োজিত এ সেমিনারে সাংবাদিক,গণমাধ্যমকর্মী ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।