নুরুজ্জামান দোয়ারাবাজার সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারে এক সৌদিপ্রবাসী তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে পাঠানো টাকা আত্মসাৎ, প্রতারণা ও সংসার ভাঙার অভিযোগ তুলেছেন। একই সঙ্গে জমি কিনে না দেওয়ায় ঘর ভাঙচুর ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে দোয়ারাবাজার থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে৷৷ (২৪ জুন বুধবার ) অভিযোগকারী ও প্রবাসীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, উপজেলার টেংরাটিলা গ্রামের মৃত কেরামত আলীর পুত্র আলম মিয়া প্রায় ১৮ বছর আগে পারিবারিকভাবে বাংলাবাজার ইউনিয়নের পেকপাড়া গ্রামের তাজুল ইসলামের মেয়ে রুজিনা বেগমকে বিয়ে করেন। তাঁদের সংসারে ১৬ বছর বয়সী এক কন্যাসন্তান রয়েছে। গত ছয় সাত বছর ধরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন আলম মিয়া। অভিযোগে বলা হয়, দেশে থাকতেও আলম মিয়ার স্ত্রী একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। প্রবাসে যাওয়ার পর তিনি স্ত্রীকে চাকরিতে যেতে নিষেধ করলে পারিবারিক দ্বন্দ্বের সূত্রপাত হয়। প্রবাস থেকে আলম মিয়া উপার্জিত অর্থ স্ত্রীর কাছেই পাঠাতেন। অভিযোগকারী পক্ষের দাবি, স্ত্রী সেই টাকা আত্মসাৎ করে সংসার ছেড়ে ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চলে যান। পৃথক একটি লিখিত অভিযোগে টেংরাটিলা গ্রামের বাসিন্দা ও নিজেকে কৃষিজীবী হিসেবে উল্লেখকারী মো. আব্দুল করিম (৫০) জানান, তাঁর সৌদিপ্রবাসী ভাই দেশে থাকা এক আত্মীয় দম্পতির কাছে জমি কিনে দেওয়া ও বন্ধক রাখার প্রতিশ্রুতিতে পর্যায়ক্রমে বড় অঙ্কের টাকা পাঠান। ২০২০ সালের জুন থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব টাকা পাঠানো হয়। এর মধ্যে আংশিক জমি একটি অনিবন্ধিত (আন-রেজিস্ট্রি) দলিলের মাধ্যমে কেনা হলেও বাকি টাকার বিপরীতে কোনো জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে তাঁর অভিযোগ। অভিযোগে আরও বলা হয়, পাওনা টাকা ও দলিল ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা তা অস্বীকার করেন এবং অভিযোগকারীসহ সাক্ষীদের প্রাণনাশের হুমকি দেন। সর্বশেষ চলতি বছরের ৩ জুন অভিযুক্ত পক্ষের লোকজন অভিযোগকারীর নির্মাণাধীন একটি টিনের ঘরে ঢুকে দা ও লোহার রড দিয়ে ভাঙচুর চালান বলে দাবি করা হয়েছে, এতে আনুমানিক ৬০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়। অভিযোগকারীর ভাষ্য, একই বিষয়ে এর আগে তিনি দোয়ারাবাজার আমলি আদালতে একটি মামলা (সিআর মামলা নম্বর ১১৮/২০২০) দায়ের করেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন। এ বিষয়ে দোয়ারাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।