নিজস্ব প্রতিবেদক | বিরামপুর (দিনাজপুর) | ২৮ জুন ২০২৬ইং্যদিনাজপুরের বিরামপুর রেলওয়ে স্টেশনে রেলের ফেন্সিং সংলগ্ন এলাকায় একটি দোকান উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিরামপুর রেলস্টেশনের স্টেশন ইনচার্জ মোঃ কাজী আলাউদ্দিন ফয়েজের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, রেলওয়ের বিধি অমান্য,অবৈধভাবে দোকান পরিচালনার সুযোগ দেওয়া এবং এক কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন অভিযোগ কারী সহ স্থানীয়রা। অভিযোগকারী মোঃ আব্দুল্লাহ আল মোর্শেদ,হেড বুকিং মাস্টার,বিরামপুর রেলওয়ে স্টেশন জানান,রবিবার (২৮ জুন) সকাল আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে স্টেশনের কয়েকজন শ্রমিক তার কাছে অভিযোগ করেন যে,রেলওয়ের ফেন্সিং সংলগ্ন স্থানে একটি দোকান নিয়মবহির্ভূত ভাবে পরিচালিত হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে দোকানটির বৈধ অনুমোদনের কাগজপত্র দেখতে চান। তবে দোকান পরিচালনাকারী ব্যক্তি কোনো বৈধ অনুমোদনপত্র দেখাতে পারেননি বলে তিনি দাবি করেন। পরে রেলওয়ের স্বার্থে দোকানটি সরিয়ে দেওয়া হয়।
হেড বুকিং মাস্টারের দাবি,রেলওয়ের ফেন্সিং সংলগ্ন জায়গা ভেন্ডিং জোনের আওতাভুক্ত নয়। ফলে সেখানে দোকান পরিচালনার কোনো বৈধ সুযোগ নেই। এ সময় দোকান পরিচালনাকারী ব্যক্তি দাবি করেন,স্টেশন ইনচার্জ সবকিছু জানেন এবং তার অনুমতিতেই তিনি দোকান পরিচালনা করছেন। এ বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুললে স্টেশন ইনচার্জের বিরুদ্ধে রেলওয়ের বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উত্থাপন করেন অভিযোগকারী। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন,বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় স্টেশন ইনচার্জ তাকে বিভিন্ন ভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন।
পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয় বলে জানান অভিযোগকারী। ঘটনার সত্যতা যাচাই করতে সংবাদকর্মীরা স্টেশন ইনচার্জের কার্যালয়ে গেলে প্রথমে তাকে অফিসে পাওয়া যায়নি। অফিস কক্ষে উপস্থিত দুই কর্মচারী জানান,তিনি পাশের কক্ষে রয়েছেন। পরে কয়েকবার ডাকাডাকির পর তিনি খালি গায়ে বাইরে আসেন। অভিযোগকারীর ভাষ্য অনুযায়ী জানা যায় তিনি তখন ঘুমাচ্ছিল।
তখন রেলওয়ে স্টেশন ইনচার্জ এর আচরণ দেখে মনে হচ্ছিল তিনি ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। এ ঘটনাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে আরও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে,ঠিক ওই সময় পার্বতীপুর ফুলবাড়ীর দিক থেকে বিরামপুরমুখী একটি ট্রেন আসার নির্ধারিত সময় ছিল এবং সংশ্লিষ্ট লাইনের সিগন্যাল (ডাউন) চালু ছিল। এমন পরিস্থিতিতে স্টেশন ইনচার্জ দায়িত্বস্থলে অনুপস্থিত থাকলে কিংবা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে তা যাত্রী ও রেল চলাচলের নিরাপত্তার জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে স্থানীয়রা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
এদিকে প্রতিবেদকের উপস্থিতিতে স্টেশন ইনচার্জের কাছে সংশ্লিষ্ট দোকানের বৈধ অনুমোদনের কাগজপত্র দেখতে চাওয়া হলে তিনি অভিযোগ অনুযায়ী ওই দোকানের কোনো অনুমোদনপত্র দেখাতে পারেননি। বরং অন্য একটি দোকানের কাগজপত্র দেখানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে সেখানেও সংশ্লিষ্ট দোকানের বৈধ কোন অনুমোদনের কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগকারীর দাবি।
ঘটনাস্থলের পাশের একটি দোকানের কর্মচারীও সাংবাদিকদের কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে স্টেশন ইনচার্জ মোঃ কাজী আলাউদ্দিন ফয়েজ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,তার কার্যক্রমে বৈধতা রয়েছে এবং তিনি নিয়ম মেনেই দায়িত্ব পালন করছেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের অভিযোগ, বর্তমান স্টেশন ইনচার্জ দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের দাবি,। তার বিরুদ্ধে অতীতেও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। তারা অভিযোগ করেন,রেলওয়ের নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকাবাসী,যাত্রী ও সংশ্লিষ্টদের দাবি,বিষয়টি নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রেলওয়ের প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী কঠোর প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগকারী মোঃ আব্দুল্লাহ আল মোর্শেদও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।