নিজস্ব প্রতিবেদক | বিরামপুর (দিনাজপুর) দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের পশ্চিম জয়দেবপুর আবাসন প্রকল্প এলাকায় একই পরিবারের চার শিশুর মৃত্যুকে ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ,গত কয়েক মাসের ব্যবধানে বক্কর আলীর পরিবারের চার শিশুর অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘটেছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের দাবি উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রথমে পরিবারের তিন শিশুর মৃত্যু হয়। পরে গত পবিত্র ঈদুল আজহার প্রায় দুই দিন আগে পরিবারের আরেক শিশু জুইপা মনি (প্রায় ১১ বছর) মারা যায়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, চারটি মৃত্যুর ঘটনাই একই পরিবারের সদস্যদের ঘিরে সন্দেহের জন্ম দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো কোনো তদন্ত সংস্থা আনুষ্ঠানিক ভাবে নিশ্চিত করেন নাই। পক্ষান্তরে যদি কোন আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত করেন তবে আসল ঘটনার মুল জোট খুলবে বলে এলাকার জনতার জোরদাবী। এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, প্রথম তিন শিশুকে আবাসন এলাকার সেলিমের বাড়ির পাশে এবং জুইপা মনিকে স্থানীয় নরুলের বাড়ির পশ্চিম পাশে দাফন করা হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, বিষয়টি নিয়ে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা রয়েছে। তারা দাবি করেন,ঘটনাগুলোর সঠিক তদন্ত হলে প্রকৃত তথ্য বেরিয়ে আসবে।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ,প্রতিটি মৃত্যুর ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্য আকবর হোসেনকে অবহিত করা হলেও বিষয়গুলো যথাযথ ভাবে তদন্তের উদ্যোগ গ্রহণ করেন নাই বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।
তবে এই অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড সদস্যের বক্তব্যে তিনি জানান উক্ত বিষয়ে আমি জেনেছি তবে অভিযোগের তেমন কিছু নাই বলে জানান। এবিষয়ে খানপুর ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ড সদস্য ও বিরামপুর উপজেলা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, "আমি বিষয়টি প্রায় দুই দিন আগে জানতে পেরেছি। ঘটনা গুলোর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া একান্ত প্রয়োজন। তদন্তে যদি কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়,তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।"
খানপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান
"চিত্তরঞ্জন পাহান " এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের কথা শুনছি। লিখিত অভিযোগ পেলে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।" স্থানীয়দের দাবি,আবাসন প্রকল্প সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনেকেই ঘটনাগুলো সম্পর্কে অবগত রয়েছেন। এ কারণে অনেক অভিভাবক নিজেদের সন্তানদের ওই পরিবারের বাড়ির আশপাশে যাতায়াত করতে নিরুৎসাহিত করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন,যদি কোনো শিশুর মৃত্যু অস্বাভাবিক হয়ে থাকে, তবে প্রতিটি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া জরুরি। তারা সংশ্লিষ্ট প্রশাসন,পুলিশ এবং শিশু সুরক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।