এমডি রেজওয়ান আলী বুরো প্রধান:
দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি এসেছে। সরকারের উদ্যোগে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে বর্তমান ৫০ শয্যা থেকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জারি করা সরকারি পত্রে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দ ও আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিদিন শুধু বিরামপুর নয়,পাশের নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর (হিলি) ও পার্বতীপুর উপজেলা থেকেও বিপুল সংখ্যক রোগী চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সীমিত শয্যা,চিকিৎসক ও জনবল সংকট এবং রোগীর অতিরিক্ত চাপের কারণে অনেক রোগীকে কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পেতে নানা ধরনের ভোগান্তির মুখোমুখি হতে হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ১০১-এ উন্নীত হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল নিয়োগ,আধুনিক চিকিৎসা যন্ত্রপাতি সংযোজন এবং হাসপাতালের অবকাঠামো সম্প্রসারণের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এতে চিকিৎসাসেবার মান উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে সংশ্লিষ্টদের আশা। স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে,দেশের বিভিন্ন উপজেলার ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে পর্যায়ক্রমে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। এর মূল লক্ষ্য হলো গ্রামীণ জনগণের দোরগোড়ায় আরও উন্নত, সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা।
এ বিষয়ে বিরামপুরের সচেতন নাগরিকরা বলেন, "শুধু শয্যা সংখ্যা বাড়ালেই হবে না; দ্রুত অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তাহলেই সাধারণ মানুষ এই সিদ্ধান্তের প্রকৃত সুফল ভোগ করতে পারবেন।" উল্লেখ্য,বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বর্তমানে দিনাজপুর জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র হিসেবে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসাসেবা প্রদান করছে। সরকারি সিদ্ধান্তের দ্রুত ও পূর্ণ বাস্তবায়ন হলে বিরামপুরসহ আশপাশের উপজেলার লাখো মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা।