এমডি রেজওয়ান আলী,দিনাজপুর জেলা প্রতিনিধি: দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার বিনাঈল ইউনিয়নে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এক তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ভাবে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে উভয় পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হওয়ায় বৈঠকে বিষয়টির কোনো মীমাংসা হয়নি। পরে উভয় পক্ষকে নিজ নিজ দায়িত্বে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ ও আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,উপজেলার বিনাঈল ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের মোহনপুর গ্রামের মোঃ এরশাদ হোসেনের মেয়ে মোহাম্মদ ইশা মনি (১৯) এর সঙ্গে একই ইউনিয়নের চৌঠা গ্রামের মোঃ আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে তাসলিমুল ইসলাম শিহাবের প্রায় তিন বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে বলে অভিযোগকারী পক্ষ দাবি করেছে। ইশা মনির অভিযোগ ,দীর্ঘদিনের ওই সম্পর্কের এক পর্যায়ে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শিহাব তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। পরবর্তীতে বিয়ের বিষয়ে চাপ দেওয়া হলে তিনি বিয়েতে অস্বীকৃতি জানান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।এ অভিযোগকে কেন্দ্র করে গত ১১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে বিনাঈল ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে স্থানীয় ভাবে সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ বাদশা মিয়ার উপস্থিতিতে উভয় পক্ষ,তাদের স্বজন ও কয়েকজন সাক্ষীর বক্তব্য শোনা হয়। সালিশ বৈঠকে অভিযোগ কারী তরুণী অভিযুক্ত যুবককে বিয়ে করার দাবি জানান। তবে অভিযুক্ত যুবক বিয়েতে রাজি হননি বলে বৈঠক সূত্রে জানা গেছে। দীর্ঘ আলোচনা হলেও কোনো পক্ষ সমঝোতায় রাজি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত স্থানীয় ভাবে বিষয়টির নিষ্পত্তি করা সম্ভব হয়নি। চেয়ারম্যানের বক্তব্য বিষয়টি সম্পর্কে বিনাঈল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ বাদশা মিয়া বলেন, “উভয় পক্ষ এবং সাক্ষীদের কাছ থেকে ঘটনার বিষয়ে তথ্য শুনেছি।আলোচনার মাধ্যমে কোনো পক্ষ কাউকে ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় বিষয়টির মীমাংসা করা সম্ভব হয়নি। তাই উভয় পক্ষকে স্ব স্ব দায়িত্বে আদালতের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।”অর্থের বিনিময়ে আপসের প্রস্তাবের অভিযোগ এদিকে অভিযোগকারী পক্ষের দাবি,সালিশ বৈঠকে তাকে অর্থের বিনিময়ে বিষয়টি মীমাংসা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে জানান। অভিযোগ কারী ইশা মনির ভাষ্য,“আমার দাবির পক্ষে না থাকায় আমি টাকা নিয়ে কোনো আপস করতে রাজি নই। আমি কখনো টাকা দিয়ে আপস করব না।”তবে অর্থের বিনিময়ে আপসের প্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগটি কার পক্ষ থেকে বা কীভাবে দেওয়া হয়েছিল,সে বিষয়ে স্বাধীন ভাবে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্য পক্ষের বক্তব্যও তাৎক্ষণিক ভাবে পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের বক্তব্য স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই তরুণ তরুণীর মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের বিষয়টি এলাকায় অনেকেরই জানা ছিল। তবে তাদের সম্পর্কের বিষয়টি জানা থাকলেও অভিযোগে উত্থাপিত শারীরিক সম্পর্ক বা বিয়ের প্রলোভনের বিষয়টি আইনগত তদন্ত ছাড়া নিশ্চিত ভাবে বলা সম্ভব নয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের মতে,বিষয়টি যেহেতু গুরুতর অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট,তাই স্থানীয় ভাবে সালিশের মাধ্যমে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। অভিযুক্তের বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত তাসলিমুল ইসলাম শিহাবের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তার বক্তব্য তাৎক্ষণিক ভাবে পাওয়া যায়নি।