এমডি রেজওয়ান আলী বুরো প্রধান:
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে এক প্রবাসীর স্ত্রীর ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও গোপনে ধারণ করে তা দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল, অনৈতিক প্রস্তাব এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগে ইমান আলী (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারীর দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে নবাবগঞ্জ উপজেলার গোলাপগঞ্জ ইউনিয়নের পত্নীচান (ডাঙ্গাপাড়া) গ্রামের নিজ বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ইমান আলীকে গ্রেপ্তার করে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। তিনি ওই গ্রামের নুরজ্জামানের ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ জুলাই ভুক্তভোগী ওই নারীর গোসলের ভিডিও গোপনে ধারণ করার অভিযোগ ওঠে ইমান আলীর বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে ওই ভিডিওকে কেন্দ্র করে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানো ও হয়রানি করার অভিযোগ করা হয়েছে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়,গত ৩০ জুলাই সকাল ১০টা ৫৮ মিনিটের দিকে ‘কলিজা’ নামের একটি ইমু আইডি থেকে ভুক্তভোগী নারীকে ফোন করা হয়। ফোনে অভিযুক্ত যুবক নিজেকে ওই নারীর দেবর হিসেবে পরিচয় দেন এবং তার সঙ্গে অশালীন কথাবার্তা বলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে ওই যুবক ভুক্তভোগী নারীর গোপনে ধারণ করা ভিডিওর কথা জানান এবং ভিডিওটি তার মোবাইল ফোনে পাঠিয়ে দেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। পরে নিজের পরিচয়ও প্রকাশ করেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে,ভিডিওটি প্রকাশ করে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই নারীকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভিডিওটি বিভিন্ন ব্যক্তি ও মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়। এতে ভুক্তভোগী নারী মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মঙ্গলবার ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে নবাবগঞ্জ থানায় পর্ণোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন,২০১২-এর ৮(১), ৮(২) ও ৮(৩) ধারায় মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। নবাবগঞ্জ থানার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই ডেভিড হিমাদ্রী বর্মা জানান,মামলার অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইমান আলীকে তার নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে,গ্রেপ্তার ইমান আলীকে বুধবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন রয়েছে।
এদিকে,ব্যক্তিগত ভিডিও গোপনে ধারণ করে কাউকে ভয় দেখানো, ব্ল্যাকমেইল করা কিংবা তা ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে না দিয়ে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্ত শেষে নিশ্চিত হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আইন অনুযায়ী নির্দোষ হিসেবে বিবেচিত হবেন।