এমডি রেজওয়ান আলী, বুরো প্রধান:
দিনাজপুরের বিরামপুরে আদালতের ১৪৪ ধারার নোটিশ জারি থাকা বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করে রোপণ করা ধান নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে বাদী পক্ষের বিরুদ্ধে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাদী ও বিবাদী পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি পাওয়ার টিলার আটক করে নিজেদের হেফাজতে রাখার দাবি করেছে বিবাদী পক্ষ। ঘটনাটি ঘটেছে মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে উপজেলার শিয়ালা মৌজার বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে। জানা যায়, শিয়ালা মৌজার জমি নিয়ে মোঃ আনোয়ারুল ইসলাম বাদী হয়ে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত (বিরামপুর),দিনাজপুরে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি মোকদ্দমা নং-২৭০ পি/২০২৬। মামলার পর আদালতের নোটিশে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারার বিধান অনুযায়ী বিরোধপূর্ণ জমিতে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে উভয় পক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
আদালতের নোটিশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, নালিশী সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের কারণে উভয় পক্ষের মধ্যে শান্তি শৃঙ্খলা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে উভয় পক্ষকে তফসিলভুক্ত জমিতে শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং নির্ধারিত তারিখে আদালতে হাজির হতে বলা হয়। আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও নোটিশে উল্লেখ রয়েছে। মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখ ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬। নোটিশ অনুযায়ী বিরোধপূর্ণ জমিটি বিরামপুর থানাধীন শিয়ালা মৌজায় অবস্থিত। তফসিলে জে.এল. নং-১০১, এস.এ. খতিয়ান-১৪, খারিজ-১৩৮, আর.এস.-৩৩, সাবেক দাগ নং-২৯৮, হাল দাগ নং-১৭০ এবং মোট ১ একর জমির মধ্যে ৫০ শতক জমির উল্লেখ রয়েছে। বিবাদী পক্ষের অভিযোগ, আদালতের নির্দেশের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তারা মামলা হওয়ার পর থেকে বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করেননি। মঙ্গলবার বিকেলে খবর পান, বাদী পক্ষ ওই জমিতে গিয়ে মামলার পূর্বে তাদের রোপণ করা ধান উপড়ে ফেলা ও কেটে ফেলার চেষ্টা করছে। খবর পেয়ে বিবাদী পক্ষের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি পাওয়ার টিলার দিয়ে রোপণ করা ধানের জমিতে কাজ করার দৃশ্য দেখতে পান বলে দাবি করেন। তাদের অভিযোগ,ওই কার্যক্রমে জমির রোপণ করা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। এ সময় তারা বাধা দিয়ে পাওয়ার টিলারটি আটক করেন।
ঘটনার সময় বিষয়টি স্থানীয় সংবাদকর্মী দৈনিক উন্নয়নে বাংলাদেশ এর প্রতিনিধি মোঃ জাকির হাসান জিমিকে জানানো হলে তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে বিরামপুর থানাধীন দিওর ইউনিয়নের বিট অফিসার এএসআই মোঃ লিটন মিয়া এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকে বলে এসেছি,কোর্টের আদেশ কেউ অমান্য করতে পারবেন না। কোর্টের আদেশ অমান্য করা আইন লঙ্ঘনের শামিল। কেউ আদেশ অমান্য করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”ঘটনাস্থলে থাকা পাওয়ার টিলারটি ‘সাইফিং’ চায়না ব্র্যান্ডের বলে জানা গেছে। এর মালিক হিসেবে কাদিপুর গ্রামের মৃত ফজলু হকের ছেলে মোঃ জুয়েল হোসেনের নাম জানা গেছে। ঘটনার পর পাওয়ার টিলারটি বিবাদী পক্ষের হেফাজতে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে আদালতের ১৪৪ ধারার নোটিশ জারি থাকা অবস্থায় বিরোধপূর্ণ জমিতে প্রবেশ করে ধান নষ্ট করার অভিযোগের বিষয়ে বাদী পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগটির সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য ও আইনগত প্রক্রিয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। আদালতের আদেশ জারি থাকা অবস্থায় বিরোধপূর্ণ জমিতে কোনো পক্ষের সরাসরি কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে উভয় পক্ষকে আদালতের নির্দেশনা মেনে চলা এবং নিজের হাতে আইন তুলে না নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।