এমডি রেজওয়ান আলী,ব্যুরো প্রধান:
দিনাজপুরের বিরামপুরে স্থানীয় বিরোধের জেরে মো.আল আমিন ওরফে আলামিনসহ আরও একজনকে একটি মামলায় জড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। অভিযোগপত্রের তথ্য অনুযায়ী,আলামিনকে মামলায় আসামি করা হলেও তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেছেন। তার ভাষ্য, ঘটনার দিনের প্রকৃত পরিস্থিতি এবং পরবর্তীতে দায়ের হওয়া মামলার অভিযোগের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য,ভিডিও ফুটেজ সহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই না করেই তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন। এদিকে একই মামলায় আরও একজনের নাম আসামি হিসেবে যুক্ত হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে। তার বাবা বিরামপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. ইব্রাহিম হোসেন বাবু। ছেলেকে মামলায় জড়ানোর বিষয়ে তিনি অভিযোগ করে বলেন, রাজনৈতিক ও স্থানীয় বিরোধের কারণে তার ছেলেকে এবং সংশ্লিষ্ট অপর ব্যক্তিকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।এবিযয়ে ইব্রাহিম হোসেন বাবু বলেন,“জুলাই আন্দোলনের পর ফ্যাসিস্ট সরকারের লোকজন পালিয়ে গেলেও তাদের দোসররা আজও বিভিন্নভাবে বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়ভাবে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মদদে আমার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে আমার ছেলে ও দলের একজন কর্মীকে মিথ্যাভাবে ফাঁসানো হয়েছে। আমার ছেলে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়।”তবে তার এসব অভিযোগের স্বতন্ত্র সত্যতা এই প্রতিবেদকের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। একইভাবে মামলায় যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে,আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের অপরাধী হিসেবে গণ্য করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য জানতে তার ছেলের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে মামলার বিষয়ে বিরামপুর থানার একজন উপ পরিদর্শক (এসআই) আলামিন এর বক্তব্য জানতে ২৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখ দুপুর ২টা ৯ মিনিটে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,“এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেওয়া যাবে না।বিভাগীয় ভাবে মামলা হয়েছে।”
সংশ্লিষ্টদের দাবি,মামলাটির তদন্ত যেন কোনো ব্যক্তি বা পক্ষের পরিচয়, রাজনৈতিক অবস্থান কিংবা স্থানীয় প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে নিরপেক্ষ ভাবে সম্পন্ন করা হয়। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য,ঘটনাস্থলের তথ্য,ভিডিও বা সিসিটিভি ফুটেজ, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি এবং মামলার অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা। আইনগত ভাবে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হওয়া মানেই তিনি অপরাধী এমনটি নয়। অভিযোগের সত্যতা তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। তাই প্রকৃত অপরাধী থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন এটাই সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।