শান্ত পাহান (ঠাকুরগাঁও):
ঠাকুরগাঁওয়ে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রের (IVAC) কার্যক্রম স্বাভাবিক ও পূর্ণাঙ্গভাবে চালু না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ভারতগামী সাধারণ মানুষ। ভিসা আবেদনসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করতে অনেক আবেদনকারীকে রাজশাহীতে যেতে হচ্ছে। কিন্তু দীর্ঘ পথ, অতিরিক্ত যাতায়াত ব্যয়, সময়ের সংকট এবং থাকার বাড়তি খরচের কারণে অনেকেই নির্ধারিত সময়ে রাজশাহীতে যেতে পারছেন না।
এতে চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা, চাকরি, পর্যটন এবং ভারতে থাকা আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে সাক্ষাতের মতো জরুরি প্রয়োজনেও বিড়ম্বনায় পড়ছেন ঠাকুরগাঁওসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষ।
ভুক্তভোগী আবেদনকারীরা জানান, আগে ঠাকুরগাঁওয়ে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র থাকায় জেলার মানুষকে ভিসা-সংক্রান্ত কাজে দূরের শহরে ছুটতে হতো না। নিজ জেলা থেকেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সুযোগ থাকায় সময় ও অর্থ দুটোই সাশ্রয় হতো। বর্তমানে সেই সুযোগ সীমিত বা কার্যকর না থাকায় অনেককে রাজশাহীমুখী হতে হচ্ছে।
ঠাকুরগাঁও থেকে রাজশাহীর দূরত্বও কম নয়। একজন আবেদনকারীকে ভিসা-সংক্রান্ত কাজের জন্য রাজশাহীতে যেতে হলে বাস বা অন্যান্য পরিবহনে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে এক দিনের মধ্যে যাওয়া-আসা ও প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করা সম্ভব হয় না। ফলে যাতায়াতের পাশাপাশি খাবার ও আবাসনের অতিরিক্ত খরচও বহন করতে হচ্ছে।
নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারের মানুষের জন্য এই অতিরিক্ত ব্যয় বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। বিশেষ করে চিকিৎসার প্রয়োজনে জরুরি ভিত্তিতে ভারতে যেতে ইচ্ছুক রোগী ও তাদের স্বজনদের ভোগান্তি আরও বেশি। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে রাজশাহীতে গিয়ে ভিসা-সংক্রান্ত কাজ সম্পন্ন করা তাদের জন্য সময়সাপেক্ষ ও কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে ঠাকুরগাঁওয়ের পাশাপাশি পঞ্চগড়, দিনাজপুর ও আশপাশের এলাকার ভারতগামী মানুষেরাও স্থানীয়ভাবে ভিসা সেবা পাওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। তাদের মতে, উত্তরাঞ্চলের একটি বড় জনগোষ্ঠীর ভারত যাতায়াতের প্রয়োজন রয়েছে। তাই শুধু রাজধানী বা কয়েকটি নির্দিষ্ট শহরকেন্দ্রিক ভিসা সেবা না রেখে উত্তরাঞ্চলের মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ঠাকুরগাঁওয়ে নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ ভিসা আবেদন সেবা চালু করা প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, ঠাকুরগাঁওয়ে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র কার্যকরভাবে চালু করা গেলে শুধু ভিসা আবেদনকারীদের দুর্ভোগই কমবে না, বরং উত্তরাঞ্চলের মানুষের সময় ও অর্থেরও সাশ্রয় হবে। পাশাপাশি সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলের সঙ্গে ভারতের যোগাযোগ, চিকিৎসা, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটন কার্যক্রম আরও সহজ হবে।
তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত ঠাকুরগাঁওয়ের ভিসা আবেদন কেন্দ্রের বর্তমান অবস্থা স্পষ্ট করা এবং কেন্দ্রটি কবে থেকে নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করবে, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষকে জানানো।
উল্লেখ্য, অতীতে উত্তরাঞ্চলের মানুষের সুবিধার কথা বিবেচনা করে ঠাকুরগাঁওয়ে ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্র চালু করা হয়েছিল। এতে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়, দিনাজপুরসহ আশপাশের জেলার মানুষের ভিসা-সংক্রান্ত সেবা গ্রহণ অনেক সহজ হয়েছিল।
বর্তমানে স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত সেবা না পাওয়ায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের একটাই দাবি—রাজশাহী বা ঢাকায় ছুটতে নয়, ঠাকুরগাঁও থেকেই যেন উত্তরাঞ্চলের মানুষ সহজে ভারতীয় ভিসা-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় সেবা নিতে পারেন।