এমডি রেজওয়ান আলী বুরো প্রধান:
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে নিখোঁজের চার দিন পর মো. মফিদুল ইসলাম (৪০) নামে এক রাজমিস্ত্রির অর্ধগলিত মরদেহ একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকি থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় মো. মাসুদ মিয়া (২৯) নামে এক প্রতিবেশী যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, মফিদুলের সঙ্গে মাসুদের স্ত্রীর কথা কাটাকাটির জেরে তাকে গালিগালাজ করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। নিহত মফিদুল ইসলাম দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ৭ নম্বর দাউদপুর ইউনিয়নের মালদহ গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ওই গ্রামের লালু মিয়ার ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতের দিকে মফিদুল ইসলাম বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরদিন নবাবগঞ্জ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার স্ত্রী জান্নাতুন বেগম। এরপর নিখোঁজের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। একপর্যায়ে মফিদুলের প্রতিবেশী যুবক মো. মাসুদ মিয়াকে সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তদন্ত সংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে জানা যায়,মফিদুল ইসলামের সঙ্গে মাসুদের স্ত্রীর কথা কাটাকাটি হয়েছিল। এক পর্যায়ে মফিদুল তাকে গালি গালাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্ষুব্ধ হয়ে মাসুদ মিয়া প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করেন বলে পুলিশের দাবি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী,গত ৪ সেপ্টেম্বর রাতে মফিদুলকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। এতে তার মৃত্যু হলে মরদেহ গোপন করার চেষ্টা করা হয়। পরে মরদেহটি একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকির ভেতরে ফেলে দেওয়া হয় এবং ওপরে কংক্রিটের স্ল্যাব দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। নিখোঁজের চার দিন পর গত ৭ সেপ্টেম্বর বিকেলে স্থানীয়রা ওই এলাকার একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের কাছ থেকে দুর্গন্ধ পান।সন্দেহ হলে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। খবর পেয়ে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে টয়লেটের ট্যাংকি থেকে মফিদুল ইসলামের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে। পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। যেভাবে বেরিয়ে এলো হত্যার রহস্য মফিদুল ইসলাম নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবার থানায় জিডি করায় বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। তদন্তের একপর্যায়ে প্রতিবেশী মাসুদ মিয়ার ওপর সন্দেহ তৈরি হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায় বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। পুলিশের দাবি,জিজ্ঞাসাবাদে মাসুদ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকি থেকে মফিদুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বাঁশের লাঠি এবং নিহতের ব্যবহৃত স্মার্টফোনও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি এ ঘটনায় গ্রেপ্তার মো. মাসুদ মিয়াকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে আদালতে দেওয়া জবানবন্দি ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলার পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি দোষী সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আইনগতভাবে তাকে অভিযুক্ত হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।
এলাকায় চাঞ্চল্য নিখোঁজের পর চার দিন ধরে পরিবারের সদস্যদের উদ্বেগের মধ্যে থাকার পর মফিদুলের মরদেহ যেভাবে একটি পরিত্যক্ত টয়লেটের ট্যাংকি থেকে উদ্ধার হয়েছে, তাতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সামান্য কথা কাটাকাটি ও গালিগালাজের মতো একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে একজন মানুষের প্রাণহানির অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা যেন আর না ঘটে,সেজন্য সামাজিক সচেতনতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। পুলিশ জানিয়েছে,ঘটনাটির সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে তদন্ত চলছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ,ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না এবং পুরো ঘটনার পেছনের বিস্তারিত তথ্য তদন্তের পর আরও পরিষ্কার হবে। এ ঘটনায় নবাবগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি/কার্যক্রম চলছে এবং গ্রেপ্তার মাসুদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। প্রতিবেদনটির তথ্যের মধ্যে মরদেহ উদ্ধারের স্থান, নিখোঁজের সময় ও ময়নাতদন্তের তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনের সঙ্গে মিলিয়ে রাখা হয়েছে।