এমডি রেজওয়ান আলী,বুরো প্রধান:প্রেমের সম্পর্কের টানে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে এসে এক তরুণীকে বিয়ে করেছেন চীনা নাগরিক পংফং (৩৭)। দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) পৌরসভার মাঠপাড়া এলাকায় এসে বাংলাদেশি তরুণী রাইসা আক্তারকে (২১) বিয়ে করেন তিনি। বিয়ের আগে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে পংফং নিজের নাম রাখেন মোহাম্মদ আলী। চীন থেকে আসা ওই যুবককে দেখতে রাইসা আক্তারের বাড়িতে স্থানীয়দের কৌতূহলী ভিড় জমেছে। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তাদের বিয়ের খবর নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে,গত ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেন পংফং। এরপর গাজীপুরের একটি আদালতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন তিনি।ধর্মান্তরের পর তার নাম রাখা হয় মোহাম্মদ আলী। পরে বাংলাদেশি তরুণী রাইসা আক্তারের সঙ্গে তার বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নবদম্পতি হিলির মাঠপাড়ায় রাইসার পরিবারের বাড়িতে আসেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়,চীনা নাগরিক পংফং পেশায় গার্মেন্টস বায়ার। তার বাড়ি চীনের হুবেই প্রদেশে। তার বাবার নাম ফাংলে জুন এবং মায়ের নাম শিয়ান চিং। অন্যদিকে রাইসা আক্তার হাকিমপুরের মাঠপাড়া এলাকার রিয়াজুল হকের মেয়ে। তিনি ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করেন।
রাইসা আক্তার জানান,ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরির সুবাদে পংফংয়ের চাচার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে তিনি চীনে গিয়ে বিয়ে করার ইচ্ছার কথা ওই ব্যক্তিকে জানান। পরে ওই ব্যক্তি তার ভাতিজা পংফংয়ের সঙ্গে রাইসার পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর মোবাইল ফোনের মাধ্যমে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ শুরু হয়। কথা বার্তার একপর্যায়ে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং তারা বিয়ের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। রাইসা বলেন, “আমি তাকে বিয়ের প্রস্তাব দিলে সে রাজি হয়। আমাকে বিয়ে করার জন্য গত ২০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসে। পরে গাজীপুর আদালতে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। বর্তমানে তার নাম মোহাম্মদ আলী। এরপর আমরা বিয়ে করি। আমাদের বিয়েতে পরিবারের সদস্য ও এলাকাবাসী সবাই আনন্দিত।”রাইসার নানা বলেন, “আমার নাতনি ঢাকায় চাকরি করে। সেখানে তার সঙ্গে চীনা নাগরিকের পরিচয় হয়। পরে তারা একে অপরকে পছন্দ করে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। এরপর ওই যুবক বাংলাদেশে এসে আমার নাতনিকে বিয়ে করেছে। বৃহস্পতিবার রাতে তারা বাড়িতে এসেছে। এতে পরিবারের সবাই আনন্দিত।”স্থানীয়রা জানান, বিদেশি নাগরিকের সঙ্গে স্থানীয় এক তরুণীর বিয়ের খবর ছড়িয়ে পড়ায় এলাকায় কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই রাইসার বাড়িতে গিয়ে নবদম্পতিকে দেখছেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলছেন। পরিবারের সদস্যরা জানান,পারস্পরিক পছন্দ ও সম্মতির ভিত্তিতেই তাদের বিয়ে হয়েছে। নতুন দাম্পত্য জীবন সুখী ও সুন্দর হোক
এমন প্রত্যাশা করছেন পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা। চীন থেকে বাংলাদেশে এসে প্রেমের মানুষকে বিয়ে করার ঘটনাটি ইতোমধ্যে হিলির স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।