এমডি রেজওয়ান আলী,বুরো প্রধান : দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় ধানক্ষেত থেকে মোকছেদুল ইসলাম (৫২) নামে এক অটোভ্যানচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) উপজেলার সাতনালা ইউনিয়নের মানিকবাটি এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত মোকছেদুল ইসলাম চিরিরবন্দর উপজেলার বাসিন্দা। তিনি অটোভ্যান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। প্রতিদিনের মতো অটোভ্যান নিয়ে বের হওয়ার পর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। পরে মানিকবাটি এলাকার একটি ধানক্ষেতে তাঁর মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে চিরিরবন্দর থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধানক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে। এ সময় মরদেহের গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় দেখতে পাওয়া যায়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পুলিশ প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের বিভিন্ন আলামত সংগ্রহের চেষ্টা করে। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, অটোভ্যান ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে মোকছেদুল ইসলামকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এটি এখনো পুলিশের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কারা জড়িত,তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে। স্থানীয়দের ধারণা, অটোভ্যান চালানোর সুবাদে মোকছেদুল বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করতেন। কোনো একসময় দুর্বৃত্তদের কবলে পড়ে তিনি হত্যার শিকার হয়ে থাকতে পারেন। তবে ঘটনার বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশ নিহতের ব্যবহৃত অটোভ্যানটির সন্ধান করছে। অটোভ্যানটি উদ্ধার করা গেলে এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব হলে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ঘটনার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ধানক্ষেতের মতো একটি এলাকায় একজন অটোভ্যানচালকের মরদেহ পড়ে থাকার ঘটনায় ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।পুলিশ জানিয়েছে,মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। এদিকে,ঘটনাটি নিছক ছিনতাই নাকি পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। নিহতের সঙ্গে কারও ব্যক্তিগত বিরোধ ছিল কি না, ঘটনার আগে তিনি কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন কি না এবং তাঁর অটোভ্যানটি কোথায় রয়েছে
এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়েছে। চিরিরবন্দর থানার পুলিশ জানিয়েছে,ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন,জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত এবং নিহতের অটোভ্যান উদ্ধারে পুলিশ কাজ করছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন হবে বলে আশা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।