সংবাদ শিরোনাম:
দোয়ারাবাজারে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ১৫ আগস্ট উপলক্ষে বিরামপুরে বিএনপির দোয়া ও আলোচনা সভার প্রস্তুতি সেলাই মেশিনে বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের আদিবাসী নারী সিমা মিনজির জীবন মির্জা রুহুল আমিন স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ঠাকুরগাঁও সীমান্তে ফেন্সিডিলসহ যুবক আটক বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নং ইউনিটের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ফুলবাড়ীতে জমি দখলের অভিযোগ, দায়ের করা মামলা এবং ইমরান চৌধুরী নিশাদ গংয়ের মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদ পৌর চেয়ারম্যান থেকে বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আদিবাসী পরিচয় নিয়ে বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ ৮০ হাঁস থেকে ৭৫০ হাঁস পালনে ভাগ্য বদল হামিদ মিয়ার
ভূয়া অষ্টম শ্রেণির সনদে আয়া পদে চাকুরির অভিযোগ! শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের নেপথ্যে কে?

ভূয়া অষ্টম শ্রেণির সনদে আয়া পদে চাকুরির অভিযোগ! শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের নেপথ্যে কে?

এমডি রেজওয়ান আলী বুরো প্রধান:
প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে সনদ প্রদান ও অনিয়মিত নিয়োগের অভিযোগ; নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি এলাকাবাসীর। দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়া পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে শিক্ষা সনদ জালিয়াতি ওনিয়োগে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের আয়া পদে নিয়োগপ্রাপ্ত মোছাঃ লাকি আক্তার চাকুরি পাওয়ার জন্য অষ্টম শ্রেণি উত্তীর্ণের একটি সনদ ব্যবহার করেছেন,অথচ তিনি প্রকৃতপক্ষে ওই বিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্রী ছিলেন না।
স্থানীয়দের অভিযোগ,একজন শিক্ষার্থী অষ্টম শ্রেণির বৈধ সনদ পেতে হলে ষষ্ঠ, সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে নিয়মিত অধ্যয়ন,উপস্থিতি এবং ষান্মাসিক ও বার্ষিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের রেকর্ড থাকার কথা। কিন্তু মোছাঃ লাকি আক্তারের ক্ষেত্রে এসব তথ্যের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ মতিয়ার রহমান রাজনৈতিক প্রভাব ও অর্থের বিনিময়ে নিয়মিত ছাত্রী না হওয়া সত্ত্বেও নিজ স্বাক্ষরে অষ্টম শ্রেণির সনদ প্রদান করেন। পরে সেই সনদের ভিত্তিতে তাকে আয়া পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি,বিষয়টি তদন্ত করতে বিদ্যালয়ের ভর্তি রেজিস্টার, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি রেজিস্টার, অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষার ফলাফল রেজিস্টার,সনদ ইস্যু রেজিস্টার, ট্রান্সফার সার্টিফিকেট (টিসি) রেকর্ড, শিক্ষার্থী তথ্য সংরক্ষণ রেজিস্টারসহ সংশ্লিষ্ট সব নথি যাচাই করা হোক। পাশাপাশি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদনপত্র,নিয়োগ বোর্ডের কার্যবিবরণী,নির্বাচনী কমিটির সুপারিশ,শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ যাচাই সংক্রান্ত নথি এবং নিয়োগ অনুমোদনের কাগজপত্রও তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন,আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শিয়ালা উচ্চ বিদ্যালয়ে কয়েকজন কর্মচারী নিয়োগের সময় মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেন হয়েছে। তাদের দাবি,আয়া পদে নিয়োগের ক্ষেত্রেও অর্থের বিনিময়ে ভুয়া সনদ ব্যবহার করে চাকুরি পাইয়ে দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য,লিখিত অভিযোগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এতে জনমনে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, যদি অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে এটি শুধু একটি বিদ্যালয়ের অনিয়ম নয়; বরং শিক্ষা সনদ জালিয়াতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের একটি গুরুতর দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে, যা রাষ্ট্রের শিক্ষা ব্যবস্থা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রতি জনসাধারণের আস্থা ক্ষুণ্ন করতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এ বিষয়ে বিরামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার,জেলা শিক্ষা অফিসার (দিনাজপুর) এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) আঞ্চলিক কর্মকর্তা বরাবর অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত তেমন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি, জনসাধারণের বিরূপ প্রতিক্রিয়া। স্থানীয়দের দাবি স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও তথ্যভিত্তিক তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুয়া সনদে চাকরি হয়ে থাকলে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি

Design & Development BY : ThemeNeed.com