সংবাদ শিরোনাম:
দোয়ারাবাজারে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার ১৫ আগস্ট উপলক্ষে বিরামপুরে বিএনপির দোয়া ও আলোচনা সভার প্রস্তুতি সেলাই মেশিনে বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁওয়ের আদিবাসী নারী সিমা মিনজির জীবন মির্জা রুহুল আমিন স্মৃতি গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন ঠাকুরগাঁও সীমান্তে ফেন্সিডিলসহ যুবক আটক বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নং ইউনিটের বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ ফুলবাড়ীতে জমি দখলের অভিযোগ, দায়ের করা মামলা এবং ইমরান চৌধুরী নিশাদ গংয়ের মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত সংবাদ সম্মেলনের প্রতিবাদ পৌর চেয়ারম্যান থেকে বঙ্গভবনের পথে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আদিবাসী পরিচয় নিয়ে বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ ৮০ হাঁস থেকে ৭৫০ হাঁস পালনে ভাগ্য বদল হামিদ মিয়ার
থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে কঠোর বার্তা দিলেন মন্ত্রী জাহিদ হোসেন

থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে কঠোর বার্তা দিলেন মন্ত্রী জাহিদ হোসেন

এমডি রেজওয়ান আলী বুরো প্রধান:
বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীতে আয়োজিত এক সেমিনারে থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে যুগান্তকারী পদক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় মন্ত্রী অধ্যাপক ডা.এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেছেন,“বিয়ের আগে পাত্র পাত্রীর রক্ত পরীক্ষা রাষ্ট্রীয় ভাবে বাধ্যতামূলক করা গেলে থ্যালাসেমিয়ার মতো ভয়াবহ জটিল রোগ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।”শুক্রবার (৮ মে) সকালে রাজধানীর মালিবাগে হোসাফ টাওয়ারে অবস্থিত বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতাল আয়োজিত বিশ্ব থ্যালাসেমিয়া দিবসের সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল “আর আড়াল নয়: রোগ নির্ণয়হীনদের খুঁজে বের করি,অলক্ষ্যে থাকা রোগীদের সহায়তা করি।”মন্ত্রী বলেন,স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সরকারিভাবে দেশে কোনো হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ থ্যালাসেমিয়া চিকিৎসার সুযোগ গড়ে ওঠেনি। তবে বর্তমান সরকার দেশের সব মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
তিনি আরও বলেন,থ্যালাসেমিয়া রোগ নির্ণয়ে একটি জাতীয় গাইডলাইন প্রণয়ন অত্যন্ত জরুরি। একইসঙ্গে রোগটি প্রতিরোধে প্রয়োজন ব্যাপক সামাজিক আন্দোলন ও গণসচেতনতা।
ডা.জাহিদ হোসেন বলেন,“আমাদের দেশে প্রতি ৯ জনে একজন থ্যালাসেমিয়ার বাহক। প্রতিবছর প্রায় ৭ থেকে ৮ হাজার শিশু থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে। অথচ অনেকেই জানেন না তারা এই রোগের বাহক কিনা। স্বামী-স্ত্রী দুজনই বাহক হলে সন্তান থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।”তিনি বলেন,প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও সোশ্যাল মিডিয়া থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। মিডিয়ার মাধ্যমে সচেতনতামূলক কনটেন্ট প্রচার বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন,“গণমাধ্যমই পারে মানুষের মধ্যে এই রোগ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা তৈরি করতে।”
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে প্রয়োজনীয় মেডিসিন সহজলভ্য করার আশ্বাস দেন। পাশাপাশি রোগীদের জন্য স্বেচ্ছায় রক্তদানে সাধারণ মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সেমিনারে বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়,বর্তমানে দেশে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার থ্যালাসেমিয়া রোগী রয়েছে। প্রতি বছর নতুন করে হাজারো শিশু এ রোগ নিয়ে জন্ম নিচ্ছে, যা দেশের জন্য উদ্বেগজনক। অনুষ্ঠানের আগে মন্ত্রী বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশন হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শন করেন এবং ভর্তি রোগীদের খোঁজখবর নেন।
বাংলাদেশ থ্যালাসেমিয়া ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা.মনজুর মোরশেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড.মোহাম্মদ আবু ইউছুফ,বাংলাদেশ মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা.মো.আবুল কালাম আজাদ,ফাউন্ডেশনের চিফ মেডিক্যাল অফিসার ডা.সাজিয়া ইসলাম ও ডা. হুমায়ুন কবিরসহ স্বাস্থ্যখাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে এটি বড় জনস্বাস্থ্য সংকটে পরিণত হতে পারে। তাই সচেতনতা বৃদ্ধি, বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা এবং সহজ চিকিৎসা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছেন বক্তারা।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি

Design & Development BY : ThemeNeed.com