
এমডি রেজওয়ান আলী বুরো প্রধান:
বাংলাদেশের সমাজকল্যাণ ও নারী শিশু উন্নয়ন খাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডাঃ এ.জেড.এম.জাহিদ হোসেন। আজ জাতীয় সংসদ ভবনে মন্ত্রীর কার্যালয়ে যুক্তরাষ্ট্র,ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্রিটিশ হাইকমিশনের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল পৃথকভাবে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মত বিনিময় করেন। বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি,নারী ও শিশু অধিকার, মানবিক উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়। সাক্ষাৎকারে অংশ নেন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত Brent T.Christensen, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত Michael Miller এবং ব্রিটিশ হাই কমিশনের এক্সপার্ট মিশনের সদস্য Matthew David Carter। মন্ত্রী ডাঃ জাহিদ হোসেন বৈঠকে বলেন,বর্তমান সরকার নারী ও শিশুদের সুরক্ষা, অসহায় মানুষের জীবনমান উন্নয়ন এবং প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। তিনি জানান,সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীকে আরও কার্যকর ও আধুনিক করতে সরকার আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় নারী উদ্যোক্তা তৈরি, শিশু সুরক্ষা কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সহায়তায় যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। এসময় মন্ত্রী বলেন,একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনে বাংলাদেশ সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা প্রতিরোধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বিষয়টি তুলে ধরেন মন্ত্রী। পাশাপাশি সামাজিক কল্যাণ খাতে প্রযুক্তিগত সহায়তা ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। মন্ত্রী আরও বলেন,বাংলা সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য এখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপকভাবে সমাদৃত হচ্ছে। এবারের পহেলা বৈশাখ উদযাপনে দেশি বিদেশি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেশের সংস্কৃতিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। এসময় আগামী ২০ এপ্রিল বগুড়া জেলায় আয়োজিত ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের জন্য মার্কিন রাষ্ট্রদূতের হাতে আমন্ত্রণপত্র তুলে দেন তিনি।
ব্রিটিশ হাইকমিশনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন,প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এর নেতৃত্বে সরকার জনগণের কল্যাণে দ্রুত বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। তিনি জানান, সরকারের উদ্যোগে ইতোমধ্যে দেশের অসচ্ছল নারীপ্রধান পরিবারগুলোর হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কৃষকদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছে ‘কৃষি কার্ড’ কর্মসূচি। মন্ত্রী বলেন,দেশের প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ কৃষির সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। তাই কৃষক,নারী ও সুবিধা বঞ্চিত জনগোষ্ঠীর উন্নয়নকে কেন্দ্র করেই সরকার টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা কাঠামো গড়ে তুলছে।
বিদেশি প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও সামাজিক নিরাপত্তা,নারী অধিকার ও শিশু সুরক্ষা কার্যক্রমে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎকালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমীন পারভীন সহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply