
ভুক্তভোগী হাজিদের অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে বেল্ট থেকে যখন তারা লাগেজ সংগ্রহ করেন, তখনই বিষয়টি নজরে আসে। লাগেজগুলোর ভেতর থেকে সৌদি আরব থেকে কেনা মূল্যবান স্বর্ণালঙ্কার, নগদ রিয়াল, দামী স্মার্টফোন, হাতঘড়ি, এমনকি জমজমের পানি ও উপহার সামগ্রীও লুট করা হয়েছে। জীবনের সমস্ত সঞ্চয় দিয়ে আল্লাহর ঘর জিয়ারত করে আসার পর, নিজ দেশের মাটিতেই এমন চুরির শিকার হওয়া কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না আল্লাহর মেহমানরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী হাজি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পবিত্র হজ পালন করে দেশে ফেরার পর দেশের মাটিতেই আমাদের এই উপহার দেওয়া হলো? বিমানবন্দরের ভেতরে সাধারণ মানুষের ঢোকার অনুমতি নেই, তাহলে এই চুরির সাহস কারা পায়? ভেতরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সহযোগিতা ছাড়া কি এতগুলো লাগেজের তালা কাটা সম্ভব?”
বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ও লাগেজ ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের দাবি, লাগেজগুলো ঢাকা আসার আগেই ট্রানজিটে বা সৌদি আরবের বিমানবন্দর থেকে কাটা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে ভুক্তভোগীদের দাবি, প্রতি বছরই হজের পর ঢাকার বিমানবন্দরে লাগেজ কাটার এমন ঘটনা ঘটে এবং প্রতিবারই “তদন্ত চলছে” বলে দায় এড়ানো হয়। বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ সঠিকভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এবং জড়িতদের কঠোর শাস্তির আওতায় আনলে এই চক্রের দৌরাত্ম্য থামানো সম্ভব।
দেশের প্রধান প্রবেশদ্বারে হাজিদের সাথে এমন আচরণ শুধু অনাকাঙ্ক্ষিতই নয়, বরং দেশের ভাবমূর্তির জন্যও চরম ক্ষতিকর। সাধারণ মানুষের দাবি, এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে বিমানবন্দরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা চোর চক্রের সদস্যদের দ্রুত শনাক্ত করা হোক এবং ভুক্তভোগী হাজিদের যথাযথ ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হোক
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply