
এমডি রেজওয়ান আলী বুরো প্রধান:
উত্তরের জনপদ দিনাজপুর-৬ সংসদীয় আসনকে ঘিরে আবারও জোরালো হচ্ছে উন্নয়ন আলোচনা। বিরামপুর, নবাবগঞ্জ,হাকিমপুর ও ঘোড়াঘাট উপজেলা নিয়ে গঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আসনে গত কয়েক বছরে যোগাযোগ ব্যবস্থা,কৃষি,শিক্ষা,স্বাস্থ্য ও বন্দর কেন্দ্রিক অর্থনীতিতে নানা পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম স্থানীয় মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে। তবে উন্নয়নের পাশাপাশি রয়ে গেছে নানা সীমাবদ্ধতা ও দীর্ঘদিনের দাবি দাওয়াও। স্থানীয়দের মতে,একসময় অবহেলিত হিসেবে পরিচিত এই জনপদ এখন ধীরে ধীরে পরিবর্তনের পথে এগোচ্ছে। বিশেষ করে আঞ্চলিক সড়ক উন্নয়ন,হিলি স্থলবন্দর কেন্দ্রিক ব্যবসা সম্প্রসারণ এবং কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে ঘিরে নতুন পরিকল্পনা সাধারণ মানুষের আগ্রহ বাড়িয়েছে।
সড়ক উন্নয়নে বাড়ছে যোগাযোগ সুবিধা দিনাজপুর-৬ আসনের বিভিন্ন এলাকায় গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণ কাজ চলমান রয়েছে। নবাবগঞ্জ ও বিরামপুর অঞ্চলের গ্রামীণ সড়কগুলো উন্নয়ন হওয়ায় কৃষিপণ্য পরিবহন সহজ হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। অনেক এলাকার ভাঙাচোরা রাস্তা সংস্কার হওয়ায় শিক্ষার্থী,ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ এখন তুলনামূলক স্বস্তিতে চলাচল করতে পারছেন। বিশেষ করে বাজার,শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও উপজেলা সদরের সঙ্গে সংযোগ সড়ক উন্নয়ন স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বর্ষাকালে যেসব এলাকায় দীর্ঘদিন কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে মানুষ দুর্ভোগে পড়তেন,সেসব এলাকাতেও ধীরে ধীরে উন্নয়ন দৃশ্যমান হচ্ছে। হিলি স্থলবন্দর ঘিরে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা হাকিমপুর উপজেলার হিলি স্থলবন্দর দিনাজপুর-৬ আসনের অর্থনীতির অন্যতম প্রাণকেন্দ্র। ভারত-বাংলাদেশ আমদানি-রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার হওয়ায় এই বন্দরকে কেন্দ্র করে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সচেতন মহল বলছেন,আধুনিক ট্রাক টার্মিনাল, উন্নত কাস্টমস ব্যবস্থাপনা,প্রশস্ত সড়ক ও পণ্য সংরক্ষণাগার নির্মাণ করা গেলে হিলি বন্দর দেশের অন্যতম বৃহৎ অর্থনৈতিক কেন্দ্রে পরিণত হতে পারে।
তবে এখনও যানজট,অবকাঠামোগত দুর্বলতা এবং কিছু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে ব্যবসায়ীরা কাঙ্ক্ষিত সুবিধা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতে নতুন পরিকল্পনা
বিরামপুর,ঘোড়াঘাট ও নবাবগঞ্জ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ কৃষিনির্ভর। ধান,গম,ভুট্টা,আলু ও শাকসবজি উৎপাদনে এই অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কৃষকদের দাবি,সেচ সুবিধা বৃদ্ধি,আধুনিক কৃষিযন্ত্র সরবরাহ ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এই অঞ্চল দেশের খাদ্য উৎপাদনে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে। স্থানীয় কৃষি বিভাগ বলছে,কৃষকদের প্রশিক্ষণ, প্রণোদনা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে কৃষকদের অভিযোগ,সার,বীজ ও সেচ সংকট এখনো পুরোপুরি দূর হয়নি।
স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নের দাবি জোরালো
দিনাজপুর-৬ আসনের চার উপজেলাতেই স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের দাবি দীর্ঘদিনের। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসক সংকট,আধুনিক যন্ত্রপাতির অভাব ও শয্যা সংকট এখনো বড় সমস্যা হিসেবে রয়ে গেছে। বিশেষ করে বিরামপুর ও হাকিমপুর অঞ্চলের মানুষ উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর বা দিনাজপুর শহরে যেতে বাধ্য হন। স্থানীয়দের দাবি, আধুনিক হাসপাতাল,বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও জরুরি চিকিৎসাসেবা বাড়ানো জরুরি। শিক্ষা ও কর্মসংস্থানে তরুণদের প্রত্যাশা তরুণদের বড় অংশ এখনও কর্মসংস্থান সংকটে ভুগছেন। অনেকেই চাকরি বা জীবিকার সন্ধানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছুটছেন। স্থানীয়ভাবে শিল্পকারখানা ও কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র গড়ে তোলার দাবি দীর্ঘদিনের। শিক্ষার্থীরা বলছেন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ বাড়ানো গেলে তরুণদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের মতে,উন্নয়নের ধারা আরও গতিশীল করতে হলে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি কার্যকর বাস্তবায়ন জরুরি। শুধু নির্বাচনের সময় নয়,সারাবছর উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকি ও জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। দিনাজপুর-৬ আসনের মানুষ এখন এমন উন্নয়ন চান,যা শুধু কাগজে কলমে নয়,বাস্তব জীবনে পরিবর্তন এনে দেবে। সড়ক,স্বাস্থ্য,শিক্ষা,কৃষি ও কর্মসংস্থানে টেকসই উন্নয়নই পারে এই জনপদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক চিত্র বদলে দিতে।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply