
এমডি রেজওয়ান আলী বুরো প্রধান:
দিওড় ইউনিয়নের বেপারীটোলা গেন্দা বাজার সড়কে অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ,ঠিকাদার তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে ক্ষোভ
এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী সুরুজ আলীর তদারকির ঘাটতির অভিযোগে এলাকাবাসীর মধ্যে চরম অসন্তোষ দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলার ৪নং দিওড় ইউনিয়নের বেপারীটোলা হইতে গেন্দা বাজার পর্যন্ত প্রায় ২৭ শত কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়ম,নিম্ন মানের সামগ্রী ব্যবহার এবং দায়িত্বহীন তদারকির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি,জনগণের কষ্টার্জিত টাকায় নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কে শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট,অপর্যাপ্ত খোয়া, দুর্বল বালু এবং মানহীন নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে রাস্তার স্থায়িত্ব ও জননিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে চরম উদ্বেগ। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিনের ভোগান্তির পর এলাকাবাসীর চলাচলের সুবিধার্থে এলজিইডির অধীনে রাস্তা নির্মাণ কাজ শুরু হলেও বাস্তবে কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে প্রথম থেকেই। অভিযোগ রয়েছে,ঠিকাদার মোঃ তোফাজ্জল হোসেন প্রভাব খাটিয়ে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করেও দায়সারাভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেক স্থানে ইটের সলিং সঠিকভাবে বসানো হয়নি,কোথাও কোথাও ইট ভাঙা ও নিম্নমানের হওয়ায় কাজ শেষ হওয়ার আগেই রাস্তার বিভিন্ন অংশ দেবে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ,নির্মাণস্থলে এলজিইডির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অনিয়ম করার সুযোগ পাচ্ছে। বিশেষ করে উপজেলা এলজিইডির সহকারী প্রকৌশলী সুরুজ আলীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি,দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীর যথাযথ তদারকি থাকলে এমন নিম্নমানের কাজ কখনোই সম্ভব হতো না। অভিযোগ রয়েছে,একাধিকবার স্থানীয়রা অনিয়মের বিষয়টি মৌখিকভাবে জানালেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। একাধিক সচেতন ব্যক্তি জানান,সরকার উন্নয়নের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করছে, অথচ মাঠপর্যায়ে কিছু অসাধু ঠিকাদার ও দায়িত্বহীন কর্মকর্তার কারণে সেই উন্নয়ন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। নিম্নমানের রাস্তা নির্মাণ মানে জনগণের টাকার অপচয় এবং ভবিষ্যতে নতুন করে সংস্কারের বোঝা জনগণের ঘাড়ে চাপানো।”স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পথচারীদের আশঙ্কা,বর্ষা মৌসুম শুরু হলে রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে গিয়ে জনদুর্ভোগ ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। তারা অবিলম্বে কাজের মান যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে ঠিকাদার তোফাজ্জল হোসেনের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে উপজেলা এলজিইডির দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে,অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকাবাসীর দাবি নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত সামগ্রীর মান পরীক্ষা করতে হবে প্রকল্পের ব্যয় ও কাজের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে দায়ী ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে হবে জনস্বার্থে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে জনগণের প্রত্যাশা,সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে কোনো ধরনের দুর্নীতি ও অনিয়ম সহ্য করা হবে না। দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার দাবি এখন সময়ের দাবি।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply