
শান্ত পাহান, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে দেওয়া নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সমতলের আদিবাসীদের পক্ষ থেকে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন আদিবাসী নারী নেত্রী আরতী মার্ডি। রাষ্ট্রপতির সামনে মঞ্চে উঠে কথা বলার সুযোগ পেয়ে আনন্দে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়ের বড় মাঠে নাগরিক কমিটির আয়োজনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে নাগরিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, শিক্ষক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা বক্তব্য দেওয়ার পর সঞ্চালকের দায়িত্বে থাকা ইকো-সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ জামান সমতলের ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়ার জন্য আদিবাসী নারী নেত্রী আরতী মার্ডিকে মঞ্চে আহ্বান জানান।
মঞ্চে ওঠার পর দৃশ্যত আনন্দিত ও আবেগাপ্লুত আরতী মার্ডি প্রথমেই উপস্থিত সবাইকে আদিবাসী অভিবাদন ‘জোহার গড়লাগি’ জানান।
তিনি বলেন, “জোহার গড়লাগি। আমার নাম আরতী মার্ডি। আমি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের কহরপাড়া থেকে এসেছি। আমি আজ এখানে নিজের জন্য আসিনি, এসেছি সমতলের আদিবাসীদের একজন প্রতিনিধি হয়ে।”
রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাওয়ায় সমতলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর আনন্দের কথা তুলে ধরে আরতী মার্ডি বলেন, “আমরা সমতলের মানুষ আজ গর্বিত। আমরা উত্তরবঙ্গের আদিবাসীরা আমাদের একজন অভিভাবক পেয়েছি। আমাদের জেলার কৃতী সন্তান জনাব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্যারকে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে পেয়ে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত।”
তিনি আরও বলেন, “আমি আমার কথা বেশি বলব না। শুধু এটুকুই বলতে চাই—স্যার দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ, রাষ্ট্রপতি পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন। আমি সমতলের আদিবাসীদের প্রতিনিধি হিসেবে স্যারের জন্য প্রার্থনা করি। মহান সৃষ্টিকর্তা যেন তাঁকে দীর্ঘায়ু দান করেন এবং সুস্থ রাখেন।”
আরতী মার্ডির এই বক্তব্যের সময় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের মঞ্চ ও উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রপতির নিজ জেলার একজন আদিবাসী নারী প্রতিনিধির মুখে এমন শুভকামনা ও ভালোবাসার কথা উপস্থিত অনেকের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।
ঠাকুরগাঁওয়ের মাটিতে জন্ম নেওয়া মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার নিজ জেলায় সফরে আসায় স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। তাঁর নাগরিক সংবর্ধনায় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি সমতলের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বও অনুষ্ঠানে বিশেষ মাত্রা যোগ করে।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply