সংবাদ শিরোনাম:
নিজ আঙিনা পরিষ্কার রাখি’ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিরামপুরে জনসচেতনতা অভিযান ছয় মাসের সন্তানকে পাশে রেখে ক্যারিয়ার গড়ার স্বপ্নে আদিবাসী কিশোরী দুলালী পাহান দেশ পুনর্গঠনে সময় প্রয়োজন: ডাক্তার জাহিদ হোসেন বোচাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঔষধ রেখেই মেয়াদ উত্তীর্ণ করার পর গোপনে পুড়িয়ে ফেলা হচ্ছে! জানেনা কেউ! ঔষধ বঞ্চিত হচ্ছে দরিদ্র মানুষ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা, ভোট ২৯ অক্টোবর নিখোঁজের চার দিন পর টয়লেটের ট্যাংকিতে রাজমিস্ত্রির অর্ধগলিত মরদেহ বাংলা হিলি (হাকিমপুর) এ সিএন্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত রাস্তা নির্মাণে নিম্ন মানের কাজ, দেখার কেউ নেই বড়পুকুরিয়া বাইপাস সড়ক নির্মাণে নিম্নমানের ইটের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে সারাদেশে কারাম পূজা: আদিবাসী ঐতিহ্য, বিশ্বাস ও সংস্কৃতির প্রাণের উৎসব ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

পেয়ার আলী, ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:
উত্তরবঙ্গের শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে নতুন দিগন্তের সূচনা হতে যাচ্ছে। উত্তরাঞ্চলে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে প্রথম সরকারি সফরের দ্বিতীয় দিনে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়টির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ফলক উন্মোচন করার কথা রয়েছে তাঁর।
ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জামালপুর এলাকায় ঠাকুরগাঁও-পীরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত জায়গায় এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। দীর্ঘদিন ধরে উত্তরবঙ্গে একটি মানসম্মত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার যে দাবি ও প্রত্যাশা ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়টি সেই প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
উত্তরবঙ্গের অনেক শিক্ষার্থীকে উচ্চশিক্ষার জন্য ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেতে হয়। এতে তাদের পড়াশোনার পাশাপাশি থাকা-খাওয়া, যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ বহন করতে গিয়ে পরিবারের ওপর বাড়তি আর্থিক চাপ তৈরি হয়। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার কারণে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও পছন্দের বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ থেকে পিছিয়ে পড়ে।
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে ঠাকুরগাঁওসহ পঞ্চগড়, দিনাজপুর, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা ও আশপাশের জেলার শিক্ষার্থীরা নিজ অঞ্চলের কাছাকাছি থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পাবে। এতে শিক্ষার্থীদের দূরের শহরে গিয়ে পড়াশোনার খরচ ও আবাসনসংক্রান্ত চাপ কিছুটা কমবে। পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের মেধাবী তরুণ-তরুণীদের জন্য উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের আগে সকালে রাষ্ট্রপতি ঠাকুরগাঁও সার্কিট হাউসে স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
অনুষ্ঠান শেষে রাষ্ট্রপতি নিজ বাসভবনে মধ্যাহ্নভোজ ও কিছু সময় বিশ্রাম নেবেন। পরে পুনরায় সার্কিট হাউসে গিয়ে প্রটোকলসংক্রান্ত আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার উদ্দেশে ঠাকুরগাঁও ত্যাগ করবেন রাষ্ট্রপতি।
এর আগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুই দিনের সরকারি সফরে হেলিকপ্টারযোগে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শহীদ মোহাম্মদ আলী স্টেডিয়ামে অবতরণের পর তাঁকে রাষ্ট্রীয় গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।
পরে তিনি তাঁর বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করেন। বিকেলে ঠাকুরগাঁও বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে আয়োজিত নাগরিক সংবর্ধনায় অংশ নেন রাষ্ট্রপতি। সেখানে বক্তব্যে তিনি জানান, ঠাকুরগাঁওয়ে ইতোমধ্যে মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুরু হয়েছে এবং বিমানবন্দর চালুর প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে।
রাষ্ট্রপতি এ সময় আলাপ-আলোচনা ও পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ় করে অর্জিত গণতন্ত্রকে আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।
ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু একটি নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই নয়, উত্তরবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে বলে প্রত্যাশা করছেন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয়রা। তাঁদের আশা, বিশ্ববিদ্যালয়টি চালু হলে উচ্চশিক্ষার জন্য উত্তরবঙ্গের শিক্ষার্থীদের আর দূর-দূরান্তে ছুটতে হবে না। নিজ অঞ্চলে থেকেই তারা মানসম্মত শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবে।
বিশেষ করে দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত পরিবারের শিক্ষার্থীদের জন্য এটি হতে পারে বড় একটি সুযোগ। উত্তরবঙ্গের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার পথ সহজ করার পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গবেষণার সুযোগ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতেও বিশ্ববিদ্যালয়টি ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি

Design & Development BY : ThemeNeed.com