

📍এমডি রেজওয়ান আলী বুরো প্রধান-দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একই ব্যক্তি একাধিকবার নিয়োগ গ্রহণ এবং তথ্য গোপন করে এমপিওভুক্ত হওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি স্থানীয় শিক্ষা প্রশাসন ও সচেতন মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের মাধুপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (কাব্যতীর্থ) পঙ্কজ চন্দ্র মহন্ত প্রথমবার ২৫ আগস্ট ২০০১ তারিখে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে ২৯ আগস্ট ২০০১ তারিখে যোগদান করেন। পরবর্তীতে একই ব্যক্তি পুনরায় ২০ সেপ্টেম্বর ২০০৩ তারিখে একই পদে পুনরায় নিয়োগ প্রাপ্ত হয়ে ৮ অক্টোবর ২০০৩ তারিখে আবারও যোগদান করেন—যা সরকারি বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী, একই ব্যক্তি একই প্রতিষ্ঠানে একই পদে একাধিকবার নিয়োগ গ্রহণ করতে পারেন না। এ ধরনের নিয়োগ অবৈধ এবং বাতিলযোগ্য। এছাড়া নিয়োগের সময় নির্ধারিত জনবল কাঠামো ও শিক্ষাগত যোগ্যতার শর্ত পূরণ করা বাধ্যতামূলক। অভিযোগে আরও বলা হয়,দীর্ঘ সময় পর ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১ সালে অভিযুক্ত শিক্ষক এমপিওভুক্তির জন্য রংপুর অঞ্চলের উপ পরিচালকের নিকট আবেদন করেন। সে সময় উপ পরিচালক তার নিয়োগ সংক্রান্ত নথিতে গুরুতর অসঙ্গতি খুঁজে পান। তার পূর্ববর্তী নিয়োগ (২০০১),শিক্ষাগত যোগ্যতা (BA 3rd Division) এবং পরবর্তীতে প্রদর্শিত নিয়োগ (২০০৩) এর মধ্যে অসামঞ্জস্য দেখা যায়। “Previous History Recruitment 2001, Upadhi 2001, BA 3rd Division. Now shows Recruitment 2003—Mismatch why?”—এই প্রশ্ন তুলে আবেদনটি বাতিল করা হয়।
তবে অভিযোগ রয়েছে,পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে এবং প্রভাব খাটিয়ে মার্চ ২০২৪ সালে এমপিওভুক্ত হতে সক্ষম হন। তার এমপিও ইনডেক্স নম্বর-৫৬৮৮১৯২৩। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। এবিষয়ে বিরামপুর উপজেলা শিক্ষা অফিসার শমসের আলী জানান, ইউএনও বরাবর অভিযোগের কপি আমি পেয়েছি,যথাযথ ব্যবস্হায় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি,এ ধরনের অনিয়ম শুধু শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নষ্ট করছে না,বরং যোগ্য প্রার্থীদের অধিকারও ক্ষুণ্ন করছে। তারা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ বিষয়ে সচেতন মহল বলছে,যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে এটি সরাসরি সরকারি অর্থ আত্মসাৎ,জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের শামিল,যা ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। প্রয়োজন হলে দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমেও তদন্ত হওয়া উচিত। এদিকে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ ও অভিযুক্ত শিক্ষকের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তারা এবিষয়ে স্পষ্ট কোনো মন্তব্য দেননি। 📢 স্থানীয়দের জোর দাবি: অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত অবৈধ নিয়োগ বাতিল
এমপিও সুবিধা স্থগিত দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বিশেষজ্ঞদের মতামত: শিক্ষা প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযোগ দ্রুত তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অনিয়মের পথ উন্মুক্ত হবে। 👉 এখন দেখার বিষয়,সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কত দ্রুত এই গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply