
এমডি রেজওয়ান আলী,বুরো প্রধান:দিনাজপুরের বিরামপুর সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে নয়জন বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেছেন বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই নারী ও এক পুরুষকে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আটক করে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। তবে স্থানীয়দের দাবি, এ সময় আরও ছয়জন সীমান্ত এলাকা থেকে সরে পড়েন। বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ২ নম্বর কাটলা ইউনিয়নের খিয়ার মামুদপুর সীমান্তের ২৯১/২০-এস সীমানা পিলারের কাছে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,খিয়ার মামুদপুর গ্রামের ফেরদৌস আলীর বাড়িতে ওই রাতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। স্থানীয়দের দাবি,এ সুযোগে সীমান্তের পিলারসংলগ্ন এলাকা দিয়ে ভারত থেকে নয়জন নারী পুরুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেন। তাঁদের মধ্যে তিনজন আশ্রয়ের জন্য স্থানীয় একটি বাড়িতে অবস্থান নেন। পরে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে এলে বিজিবিকে জানানো হয়। খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা খিয়ারমামুদপুর গ্রামের মিজানুর রহমানের বাড়িতে গিয়ে দুই নারী ও এক পুরুষকে আটক করেন। স্থানীয়দের দাবি,অভিযানের সময় মিজানুর রহমান বাড়ি থেকে সরে যান।
এদিকে,বাংলাদেশে প্রবেশ করা ব্যক্তিদের আশ্রয় দেওয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে আজিজুল ইসলাম নামে এক যুবককে বিজিবির এক সদস্য মারধর করেছেন এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে বিজিবির কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। খিয়ারমামুদপুর গ্রামের ইউপি সদস্য শুকুর আলী বলেন,স্থানীয়ভাবে তিনি জানতে পেরেছেন,বাংলাদেশে প্রবেশ করা নয়জনের মধ্যে ছয়জন আজিজুল ইসলাম ও মিজানুর রহমানের সহযোগিতায় সেখান থেকে চলে যান। পরে মিজানুর রহমানের বাড়ি থেকে তিনজনকে আটক করা হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী,আজিজুলকে মারধরের পর ছেড়ে দেওয়া হলেও তাঁর বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তবে স্থানীয়দের বক্তব্যের সঙ্গে বিজিবির বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। জয়পুরহাট ব্যাটালিয়ন (বিজিবি-২০) এর আওতাধীন ভাইগড় বিওপি ক্যাম্পের কমান্ডার সুবেদার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,বিএসএফ দুই নারী ও এক পুরুষকে বাংলাদেশে নিয়ে আসছিল। বিজিবি তাঁদের ফেরত পাঠিয়েছে। ঘটনাস্থলে তিনি নিজে উপস্থিত ছিলেন বলেও জানান তিনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য,এই সীমান্ত এলাকায় এর আগেও ভারত থেকে বাংলাদেশে লোকজনকে পুশইনের চেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। গত ২৫ জুলাই ভোরে একই সীমান্তের ২৯১/২০-এস পিলারসংলগ্ন ভারতের শ্রীরামপুর সীমান্ত দিয়ে গুজরাটের আমেদাবাদ এলাকা থেকে আসা নয়জন নারীকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও স্থানীয়ভাবে দাবি করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক ঘটনার পর সীমান্তবর্তী এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা সীমান্ত এলাকায় বিজিবির নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি এ ধরনের ঘটনায় প্রকৃত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply