
লেখক: শান্ত পাহান (ঠাকুরগাঁও)
ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলার সাংবাদিকতা অঙ্গনে মোঃ ফারুক আহম্মেদ সরকার একজন পরিচিত ও সক্রিয় সংবাদকর্মী। দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকতার সঙ্গে যুক্ত থেকে তিনি স্থানীয় বিভিন্ন ঘটনা, সমস্যা, সম্ভাবনা ও জনদুর্ভোগের বিষয় সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরার চেষ্টা করে আসছেন। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তার সম্পৃক্ততার কথা স্থানীয়ভাবে পরিচিতজনদের কাছ থেকে জানা যায়।
মোঃ ফারুক আহম্মেদ সরকার জনপ্রিয় সংবাদমাধ্যম মোহনা টিভির রানীশংকৈল উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংবাদ সংগ্রহ থেকে শুরু করে তথ্য যাচাই এবং ঘটনাস্থল থেকে সংবাদ পরিবেশন—পেশাগত দায়িত্বের প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি দায়িত্বশীল থাকার চেষ্টা করেন।
সাহসী সাংবাদিকতার প্রতিচ্ছবি
ফারুক আহম্মেদকে স্থানীয়ভাবে একজন সাহসী সাংবাদিক হিসেবে দেখা হয়। অন্যায়, অনিয়ম ও অসঙ্গতির বিষয় সামনে এলে তিনি তা নিয়ে সংবাদ করার উদ্যোগ নেন। তার কলম ও ক্যামেরা যেন জনস্বার্থের বিষয়গুলো তুলে ধরার অন্যতম মাধ্যম।
সাংবাদিকতার পথ কখনোই সহজ নয়। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা, চাপ কিংবা প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয় একজন সংবাদকর্মীকে। এসব পরিস্থিতিতেও পেশাগত দায়িত্ব থেকে পিছিয়ে না গিয়ে নিজের কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন ফারুক আহম্মেদ।
তার সাংবাদিকতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো—ব্যক্তিগত স্বার্থের চেয়ে জনস্বার্থকে গুরুত্ব দেওয়া। সাধারণ মানুষের সমস্যা, অধিকার ও প্রত্যাশার কথা সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণেও তিনি ভূমিকা রাখেন।
কলম ও ক্যামেরায় মানুষের কথা
সাংবাদিকতা শুধু কোনো ঘটনা তুলে ধরার নাম নয়; এর সঙ্গে মানুষের কথা, সমাজের বাস্তবতা এবং জনস্বার্থের বিষয়ও জড়িত। এই দৃষ্টিকোণ থেকে ফারুক আহম্মেদ স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন সমস্যা ও সংকট সংবাদে তুলে ধরার চেষ্টা করেন।
রাস্তা-ঘাটের সমস্যা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, সামাজিক অসঙ্গতি, জনদুর্ভোগ কিংবা স্থানীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা—বিভিন্ন বিষয় তার সংবাদে উঠে আসে। বিশেষ করে সাধারণ মানুষের কথা সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করার ক্ষেত্রে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন বলে পরিচিতজনেরা জানান।
নিজের স্বার্থের আগে দায়িত্ব
একজন সংবাদকর্মীর জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো পেশাগত দায়িত্ববোধ। ফারুক আহম্মেদ নিজের ব্যক্তিগত সুবিধা-অসুবিধার কথা না ভেবে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেন—এমনটাই তার সহকর্মী ও পরিচিতজনদের বক্তব্য।
কোনো ঘটনা গুরুত্বপূর্ণ মনে হলে তিনি সেটির তথ্য সংগ্রহ ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে আগ্রহী হন। প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও দায়িত্ব পালনের এই মানসিকতা তাকে স্থানীয় সাংবাদিকতায় আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
সহকর্মীদের পাশে থাকার চেষ্টা
সাংবাদিকতার পাশাপাশি সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ফারুক আহম্মেদের ভূমিকার কথা স্থানীয় সাংবাদিক মহলে আলোচিত। কোনো সহকর্মী পেশাগত সমস্যায় পড়লে তার পাশে দাঁড়ানো এবং পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ তৈরিতে তিনি ভূমিকা রাখার চেষ্টা করেন।
তার কাছে সাংবাদিকতা শুধু নিজের কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; সহকর্মীদের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতাও পেশাটির গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
মানবিক কর্মকাণ্ডেও সম্পৃক্ততা
সাংবাদিকতার পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডেও ফারুক আহম্মেদের সম্পৃক্ততার কথা স্থানীয়ভাবে জানা যায়। এলাকার অসহায়, দুস্থ ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, তাদের সমস্যা শোনা এবং সাধ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করার চেষ্টা করেন তিনি।
মানুষের সুখে যেমন পাশে থাকার চেষ্টা করেন, তেমনি দুঃসময়েও তাদের পাশে দাঁড়ানোর মানসিকতা রয়েছে বলে তার পরিচিতজনেরা জানান। সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে তার একটি নিবিড় সম্পর্ক তৈরি হয়েছে।
সত্যের পক্ষে থাকার প্রত্যয়
সাংবাদিকতার সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বিশ্বাসযোগ্যতা। সংবাদ পরিবেশনের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখা একজন সাংবাদিকের অন্যতম প্রধান কর্তব্য। ফারুক আহম্মেদও এসব বিষয়কে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার চেষ্টা করেন।
তার কলম ও ক্যামেরা কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রতি ব্যক্তিগত বিদ্বেষ প্রকাশের মাধ্যম নয়; বরং জনস্বার্থের বিষয় সামনে আনার একটি পেশাগত হাতিয়ার—এমনটাই তার সাংবাদিকতার উদ্দেশ্য বলে পরিচিতজনেরা মনে করেন।
অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সাহসিকতা যেমন প্রয়োজন, তেমনি প্রয়োজন তথ্যের যথার্থতা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য তুলে ধরা। এই ভারসাম্য বজায় রেখে সাংবাদিকতার দায়িত্ব পালন করাই একজন সংবাদকর্মীর প্রকৃত চ্যালেঞ্জ।
মানুষের আস্থা অর্জনের পথচলা
একজন সাংবাদিকের প্রকৃত পরিচয় শুধু তার পদবি কিংবা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তার কাজ, মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক, পেশাগত সততা এবং জনস্বার্থে ভূমিকার মধ্য দিয়েই তৈরি হয় তার গ্রহণযোগ্যতা।
মোঃ ফারুক আহম্মেদ সরকারও দীর্ঘদিনের সাংবাদিকতা জীবনে মানুষের সমস্যা ও এলাকার বিভিন্ন বিষয় সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরার মাধ্যমে নিজের একটি পরিচিতি তৈরি করেছেন। তার পথচলায় যেমন পেশাগত দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি রয়েছে মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতার বিষয়টিও।
সবশেষে বলা যায়, সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়—এটি সমাজের বাস্তব চিত্র মানুষের সামনে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সেই দায়িত্ববোধকে সামনে রেখে মোঃ ফারুক আহম্মেদ সরকার রানীশংকৈল উপজেলার সাংবাদিকতা অঙ্গনে কাজ করে যাচ্ছেন। সত্য, দায়িত্ববোধ, সাহসিকতা ও মানবিকতার সমন্বয়ে তার এই পথচলা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকুক—এটাই প্রত্যাশা।
ফারুক আহম্মেদ শুধু একজন সংবাদকর্মী নন; মানুষের কথা তুলে ধরার একজন কণ্ঠস্বর। তার কলম ও ক্যামেরা জনস্বার্থের কথা বলুক, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার পথে তার পথচলা আরও দীর্ঘ হোক—এই প্রত্যাশা।
প্রতিবেদনটি সংক্ষিপ্ত ও ঝরঝরে করুন
পুনরাবৃত্তি কমিয়ে ভাষা শক্তিশালী করুন
প্রশংসামূলক অংশে নিরপেক্ষতা বজায় রাখুন
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply