সংবাদ শিরোনাম:
ফুলবাড়ীতে নিরাপত্তাহীনতায় প্রবাসী ও অবসরপ্রাপ্ত সেনা পরিবার, আদালতের আদেশ অমান্য করে পরিবারকে প্রাণ নাসের হুমকি জ্বালানি সংকটের কারণে ফুলবাড়ীর কয়লা উত্তোলন করতে চায় সরকার রহস্যজনক মৃত্যু,ধানক্ষেত থেকে মরদেহ উদ্ধার বিরামপুরে ময়লা ফেলা নিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধ,বড় ভাইয়ের লাঠির আঘাতে ছোট ভাই নিহত ফুলবাড়ীর ছোট তিলাই নদীর ওপর ২ কোটি ৯৭ লক্ষ ৭৮ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুটি পরিদর্শন বোচাগঞ্জে সবজির বাজারে শীতের বার্তা, শিমের দাম চড়া এক মঞ্চে বিরামপুরের শিক্ষক সমাজ, বিশ্ব শিক্ষক দিবসে প্রাণের মিলন মেলা ‎ধানজুড়ি সেন্ট ফ্রান্সিস মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ‎উদ্যোগে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপিত ” নাই অভিযোগ, নাই অভিমান ” 💔 কিশোরী ধর্ষণ মামলায় হিলিতে গ্রেপ্তার ২,পলাতক আরও ২
বিরামপুরে ময়লা ফেলা নিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধ,বড় ভাইয়ের লাঠির আঘাতে ছোট ভাই নিহত

বিরামপুরে ময়লা ফেলা নিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ে বিরোধ,বড় ভাইয়ের লাঠির আঘাতে ছোট ভাই নিহত

এমডি রেজওয়ান আলী,বুরো প্রধান:
দিনাজপুরের বিরামপুরে বাড়ির পাশে ময়লা ফেলা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের লাঠির আঘাতে ছোট ভাই মুকুল হোসেন (৩৮) নিহত হয়েছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে বিরামপুর পৌর এলাকার কৃষ্ণচাঁদপুর (কৃষ্টচাঁদপুর) গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আপন দুই ভাইয়ের মধ্যে শুরু হওয়া বিরোধ শেষ পর্যন্ত প্রাণহানির মতো ভয়াবহ ঘটনায় রূপ নিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবার,স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। একই সঙ্গে ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,কৃষ্ণচাঁদপুর গ্রামের একটি বাড়ির পাশে ময়লা ফেলা নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। বিষয়টি নিয়ে প্রথমে তাদের মধ্যে কথা কাটা কাটি হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা বাড়তে থাকে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিরোধের একপর্যায়ে বড় ভাই লাঠি দিয়ে ছোট ভাই মুকুল হোসেনকে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনার পরপরই পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করেন। তবে গুরুতর আঘাতের কারণে মুকুল হোসেনের মৃত্যু হয় বলে জানা গেছে।সামান্য বিরোধের মর্মান্তিক পরিণতি স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী,পারিবারিক কিংবা প্রতিবেশী পর্যায়ে ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বিরোধ হলেও তা যে কখনো কখনো ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে,এই ঘটনা তারই একটি নির্মম উদাহরণ। একই পরিবারের দুই ভাইয়ের মধ্যে শুরু হওয়া বিরোধ মুহূর্তের মধ্যে সংঘর্ষে রূপ নেয়। আর সেই সংঘর্ষেই প্রাণ হারালেন ৩৮ বছর বয়সী মুকুল হোসেন। আপন জনের হাতে স্বজনের এমন মৃত্যুতে এলাকায় শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্নেরও সৃষ্টি হয়েছে।স্থানীয়রা বলছেন, সামান্য বিষয় নিয়ে উত্তেজিত হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার আগে সবাইকে আরও সংযত হওয়া প্রয়োজন। কারণ একটি মুহূর্তের উত্তেজনা একটি পরিবারের সারাজীবনের কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। ঘটনাস্থলে পুলিশ, মরদেহ ময়নাতদন্তে ঘটনার খবর পেয়ে বিরামপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ নিহত মুকুল হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। সংঘর্ষের প্রকৃত কারণ,ঘটনার আগে ও পরে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল এবং এতে কারা জড়িত এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান এ ঘটনায় অভিযুক্ত বড় ভাইকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। ঘটনার পর থেকেই পুলিশ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করছে। বিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান,ঘটনার বিষয়ে পুলিশ তদন্ত করছে এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে,তদন্তে ঘটনার প্রকৃত রহস্য ও দায়ীদের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে আসবে। আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এলাকায় শোকের ছায়া
এদিকে,মুকুল হোসেনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে কৃষ্ণচাঁদপুর এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। প্রতিবেশী ও স্থানীয়রা নিহতের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন। আপন ভাইয়ের সঙ্গে বিরোধের জেরে মুকুলের এমন করুণ মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা। একটি পারিবারিক বিরোধ যে এতটা ভয়াবহ রূপ নিতে পারে,তা অনেকের কাছেই অবিশ্বাস্য বলে মনে হয়েছে।
তদন্তের অপেক্ষায় পরিবার ও এলাকাবাসী নিহতের পরিবার এখন ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছে। অন্যদিকে পুলিশও ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিকে আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পুলিশি তদন্তের পর মৃত্যুর বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সামান্য ময়লা ফেলা নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ শেষ পর্যন্ত একজন মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়ার ঘটনায় পরিণত হওয়ায় পুরো এলাকায় এখন একটাই প্রশ্ন একটু সংযম আর সহনশীলতা কি বাঁচাতে পারত না একটি প্রাণ? ঘটনার পর থেকে কৃষ্ণচাঁদপুর এলাকায় বিরাজ করছে থমথমে পরিস্থিতি। পুলিশি তদন্ত শেষ হলে এ ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের বিষয়ে আরও পরিষ্কার তথ্য পাওয়া যাবে।

এই পোস্টটি আপনার সামাজিক মিডিয়াতে ভাগ করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি

Design & Development BY : ThemeNeed.com