
এমডি রেজওয়ান আলী,বুরো প্রধান: দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলায় ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর তাদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালতের নির্দেশে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এ মামলায় আরও দুই আসামি পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ ও মামলার সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাকিমপুর উপজেলার এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মামলা দায়েরের পর হাকিমপুর থানা পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করে। মামলার এজাহারে থাকা আসামিদের শনাক্ত ও তাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। পুলিশের অভিযানে মামলার এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাদের থানায় এনে মামলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। পরে ৪ অক্টোবর তাদের আদালতে হাজির করা হলে শুনানি শেষে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গ্রেপ্তার দুই আসামিকে দিনাজপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আরও দুই আসামি পলাতক এদিকে একই মামলার অপর দুই আসামি এখনও পলাতক রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়,মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে বিভিন্ন তথ্য যাচাই বাছাই করা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা,অভিযোগের সত্যতা এবং অন্যান্য বিষয় তদন্তের মাধ্যমে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।সুষ্ঠু তদন্তের দাবি স্থানীয়দের কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগের ঘটনাটি এলাকায় জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের মতে,এ ধরনের ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা দ্রুত উদঘাটন করা জরুরি। পাশাপাশি ভুক্তভোগী কিশোরী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা। তদন্তের পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা পুলিশ জানিয়েছে, মামলাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য,সাক্ষ্য প্রমাণ ও অন্যান্য আইনগত উপাদান পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্যও পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশ আরও জানায়,তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা স্পষ্ট হওয়ার পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনাটি নিয়ে হাকিমপুর (হিলি) উপজেলায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে। এখন পলাতক দুই আসামিকে গ্রেপ্তার এবং তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের দিকে নজর রয়েছে স্থানীয়দের।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply