
পেয়ার আলী ঠাকুরগাঁও জেলা প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাগজে-কলমে শিক্ষার্থী ৬৫ জন থাকলেও সরেজমিনে পাওয়া গেছে মাত্র দুইজন। আর ওই দুই শিক্ষার্থীকে পাঠদান করছেন চারজন শিক্ষক। এমন চিত্র দেখা গেছে উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের পামোল বেতবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।
সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষগুলো পরিপাটি এবং চেয়ার-টেবিলও রয়েছে। কিন্তু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল খুবই নগণ্য। প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত শ্রেণিকক্ষগুলোতে শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক কোলাহল নেই। পুরো বিদ্যালয়ে মাত্র দুজন শিক্ষার্থীকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকালে প্রথম শিফটে দু-একজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে এলেও দুপুরের পর দ্বিতীয় শিফটে অনেক সময় কোনো শিক্ষার্থীই উপস্থিত থাকে না। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতির কারণ জানতে নিয়মিত বাড়ি বাড়ি খোঁজ নেওয়া বা হোম ভিজিট করা হয় না।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী নিয়মিত অনুপস্থিত থাকলে তার কারণ অনুসন্ধান করে বিদ্যালয়ে উপস্থিতি বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এ বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমলেও সে অনুযায়ী কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। আশপাশে কয়েকটি মাদ্রাসা গড়ে ওঠায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের সেখানে ভর্তি করছেন। পাশাপাশি শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের প্রতি নজরদারির ঘাটতির কারণেও বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ কমে গেছে বলে অভিযোগ তাদের।
তারা আরও অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কেউ কেউ নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকেন না। উপস্থিত থাকলেও যথাযথভাবে পাঠদান করা হয় না। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলার সময় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গণমাধ্যমকর্মীদের আশপাশে অবস্থান করায় অনেকে প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। পরে প্রধান শিক্ষক সরে গেলে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা ও শিক্ষার্থী সংকটের কথা জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাদেকুল ইসলাম (হিরু) বলেন, আশপাশের এলাকায় মাদ্রাসা গড়ে ওঠায় আগের তুলনায় বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী কমে গেছে। শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে ফিরিয়ে আনতে তারা চেষ্টা করছেন।
এ বিষয়ে রাণীশংকৈল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলমের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যেখানে চারজন শিক্ষক দায়িত্ব পালন করছেন, সেখানে বাস্তবে মাত্র দুজন শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বিদ্যালয়ের প্রকৃত শিক্ষার্থী সংখ্যা, উপস্থিতির হার এবং শিক্ষকদের নিয়মিত পাঠদানসহ সার্বিক বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ওয়েবসাইট এর কোনো লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার সম্পুর্ণ বেআইনি
Leave a Reply